হানি ট্র্যাপে ফাঁসিয়ে সামরিক তথ্য পাচার! পাকিস্তানের আইএসআইয়ের গুপ্তচর সন্দেহে আলোয়ার থেকে গ্রেফতার মঙ্গৎ সিং

পাকিস্তানের আইএসআই-এর (ISI) হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে রাজস্থানের আলোয়ার (Alwar) জেলার এক বাসিন্দাকে গ্রেফতার করল রাজস্থান ইন্টেলিজেন্স। ধৃতের নাম মঙ্গৎ সিং। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দিক থেকে সংবেদনশীল আলোয়ার সেনানিবাস এলাকা থেকে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে ১৯২৩ সালের Official Secrets Act অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার দীর্ঘ নজরদারি ও তদন্তের পর বৃহস্পতিবার তাঁকে আটক করা হয়।

‘ইশা শর্মা’র হানি ট্র্যাপ:

তদন্তে উঠে এসেছে, এক মহিলা পাকিস্তানি অপারেটিভ ‘ইশা শর্মা’ নামে একটি ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া আইডি তৈরি করে মঙ্গৎ সিংকে হানি ট্র্যাপে ফাঁসিয়েছিলেন। প্রথমে আবেগের খেলা এবং পরে আর্থিক প্রলোভনের জালে ফেঁসে গিয়ে মঙ্গৎ ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য শেয়ার করতে শুরু করেন।

রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর ধরে মঙ্গৎ সিং পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আলোয়ার সেনানিবাস এবং অবস্থানগত নানা কৌশলগত গোপন তথ্য পাকিস্তানে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

রাজস্থান ইন্টেলিজেন্সের ডিআইজি রাজেশ মীল জানিয়েছেন, “ধৃত ব্যক্তি গ্রেফতারের আগে পর্যন্তও পাক হ্যান্ডলারদের কাছে সামরিক তথ্য পাঠাতেন। মঙ্গৎ সিং নিয়মিতভাবে পাকিস্তানের দু’টি নম্বরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং এর বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের টাকা পেতেন।”

আর্থিক লেনদেন ও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র:

তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, মঙ্গৎ পাকিস্তানের যে দুটি মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, তার মধ্যে একটি নম্বরের মাধ্যমে ওই মহিলা হ্যান্ডলার যোগাযোগ করতেন, অন্যটি সরাসরি আইএসআই-এর হেডকোয়ার্টারের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

বর্তমানে জয়পুরের সেন্ট্রাল ইন্টেরোগেশন সেন্টারে মঙ্গৎ সিংকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জেরায় গোয়েন্দারা অনুমান করছেন, শুধু সৈন্যদের চলাফেরাই নয়, সেনানিবাসের বিন্যাস, কৌশলগত পরিকল্পনা ও অবকাঠামো সম্পর্কেও তথ্য পাচার করেছিলেন তিনি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এখন তথ্য ফাঁসের ব্যাপ্তি ও আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।