জলের এক ফোঁটাও লাগবে না! আমেরিকার এই তাক লাগানো চাষে ফলছে টমেটো-আলু

বাজারে গেলে টমেটো, আলু কিংবা যেকোনো সবজির চড়া দাম দেখে আমাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। কিন্তু এই সবজিগুলো মাঠ থেকে আমাদের রান্নাঘরে পৌঁছে দিতে কৃষকদের ঠিক কতটা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়, তা আমরা খুব কমই উপলব্ধি করি। পরিবর্তনশীল আবহাওয়া, তীব্র দাবদাহ এবং সেচের জলের চরম অভাবের মধ্যে নিয়মিত চাষাবাদ করা বর্তমান সময়ে কোনো সহজ কাজ নয়। এমন এক কঠিন পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন দূরদর্শী কৃষক চাষাবাদের এক সম্পূর্ণ অভিনব ও অবিশ্বাস্য পদ্ধতি সামনে এনেছেন, যা গোটা কৃষি বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। তিনি এক ফোঁটা জল বা সেচ ছাড়াই জমিতে টমেটো, আলু, রসুন এবং শিমের মতো বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। কৃষির ভাষায় এই বিস্ময়কর পদ্ধতিটিকেই বলা হয় ‘শুষ্ক চাষ’ বা ড্রাই ফার্মিং।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের এই অভিজ্ঞ কৃষকের জন্য শুষ্ক চাষাবাদ কিন্তু কোনো হঠকারী পরীক্ষা বা নতুন ঘটনা নয়। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে অত্যন্ত সফলভাবে এই পদ্ধতির চর্চা করে আসছেন। তাঁর সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মাটি সঠিকভাবে প্রস্তুত করা এবং সঠিক ফসল নির্বাচন করা গেলে ন্যূনতম বা শুন্য জলেও সফলভাবে চাষাবাদ করা সম্ভব। এই পদ্ধতির মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে মাটি তৈরির প্রক্রিয়ার মধ্যে। জমি এমন নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করা হয় যাতে তা দীর্ঘ সময় ধরে ভূগর্ভস্থ আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। সাধারণত বসন্তকালে জমিতে প্রথম চাষ দেওয়া হয়, যখন মাটির অভ্যন্তরে বীজ বুনবার মতো পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় থাকে।
মাটি তৈরির এই অভিনব কৌশলের পাশাপাশি মাটির গঠন বা ধরনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওই মার্কিন কৃষক মূলত এঁটেল বা উর্বর মাটি ব্যবহার করেছেন, যা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি সময় ধরে জল বা আর্দ্রতা ধরে রাখতে সক্ষম। এছাড়া জমির প্রাকৃতিক উর্বরতা বজায় রাখতে তিনি শিম জাতীয় ফসলও চাষের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। ২০০৭ সালে তিনি ওরেগনে এসে প্রায় ৯.৬ একর জমিতে এই শুষ্ক চাষ শুরু করেন। সেখানে সেচের জলের মারাত্মক অভাব থাকলেও তিনি হাল ছাড়েননি। ওরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪ সালের একটি গবেষণায় তাঁর এই সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞানসম্মত এই শুষ্ক চাষে বীজের বপন কৌশল অত্যন্ত নিখুঁত হতে হয়। বীজগুলোকে মাটির এমন গভীরে স্থাপন করা হয় যাতে তা মাটির নিজস্ব আর্দ্রতার কাছাকাছি থাকে। পাশাপাশি উদ্ভিদের সঠিক বৃদ্ধির জন্য চারপাশের মাটি আলগা রাখা হয় এবং গাছগুলির মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখা হয়। যদিও সব মাটিতে বা সব আবহাওয়ায় এই পদ্ধতি সমানভাবে কার্যকর নয়, তবুও তীব্র জলসঙ্কটযুক্ত অঞ্চলে এই শুষ্ক চাষ ভবিষ্যতের কৃষিক্ষেত্রে এক বিপ্লব ঘটাতে পারে।