ফের ঘূর্ণাবর্তের ভ্রুকুটি! শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস, দীপাবলির আগে বড় বিপাকে ব্যবসায়ীরা

অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহেও রাজ্য থেকে বর্ষার রেশ কাটছে না। বর্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার কথা থাকলেও, শহরবাসীর কাছে এখনও জুলাই-অগাস্টের মতোই লাগছে এই সময়টা। সকাল থেকে রাত মেঘলা আকাশ আর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জনজীবন ব্যাহত।

বুধবার সকালে সূর্যের ঝলক দেখা গেলেও দিনের বাকিটা সময় হালকা বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশ বিরাজ করেছে। ভারী বৃষ্টি না হলেও টানা বৃষ্টি না থামায় যানজটে নাকাল হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। তারাতলা থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত মাত্র ৯ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে ট্যাক্সিতে সময় লেগেছে প্রায় এক ঘণ্টা, যা স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুণ। বুধবার সন্ধ্যায় আলিপুর আবহাওয়া দফতর ১৮ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। টানা মেঘলা আকাশ তাপমাত্রা কমিয়ে দিয়েছে; বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯.৪° সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩° কম।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আকাশে রোদ থাকলেও, তা স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে চিন্তা রয়েছে। কারণ, শুক্রবার থেকে ফের একটি নতুন ঘূর্ণাবর্ত দানা বাঁধার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তবে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি কমবে বলে জানা গিয়েছে।

বর্তমানে এই বৃষ্টির মূল কারণ হলো দক্ষিণ বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকার ওপরে সক্রিয় একটি উচ্চ-বাতাসের ঘূর্ণিঝড় সঞ্চালন। এর পাশাপাশি, ১০ অক্টোবর উত্তর বঙ্গোপসাগরে আরও একটি ঘূর্ণিঝড় সঞ্চালন তৈরি হতে পারে, যদিও সেটির সরাসরি প্রভাব কলকাতায় পড়ার সম্ভাবনা কম।

ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত:

এই অকালবৃষ্টিতে দীপাবলি ও কালীপুজোর আগে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। কলকাতার এক বাজি ব্যবসায়ী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “যদি বৃষ্টি না কমে, তাহলে বাজি তৈরির কাজ ব্যাহত হবে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”

যদিও পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বিদায় নিতে শুরু করেছে, কিন্তু পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রে মৌসুমী বায়ু বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে এখনও সক্রিয় রয়েছে।