যন্তর মন্তরের তীব্র আন্দোলনও ফেল! দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রভোটে বড় ধাক্কা খেল কংগ্রেস, ক্যাম্পাসে উড়ল গেরুয়া আবীর

প্রশ্নফাঁস কাণ্ড থেকে শুরু করে যন্তর মন্তরে একের পর এক তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলন— বিগত কয়েক মাসে রাজধানীর বুক কেঁপে উঠেছিল ছাত্র আন্দোলনে। জাতীয় রাজনীতিতেও এর রেশ পড়েছিল প্রবলভাবে। তবে দিল্লির মসনদ বা জাতীয় স্তরে চর্চা হলেও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (DU) সাধারণ পড়ুয়াদের রায়ে তার কোনও প্রভাবই লক্ষ্য করা গেল না। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (DUSU) নির্বাচনে কংগ্রেস সমর্থিত ছাত্র সংগঠন NSUI-কে কার্যত ধুয়েমুছে সাফ করে জয়জয়কার বজায় রাখল বিজেপি সমর্থিত ছাত্র সংগঠন আখিল ভারতীয় শিক্ষার্থী পরিষদ (ABVP)।
ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় চারটির মধ্যে সভাপতি, সম্পাদক এবং যুগ্ম সম্পাদক— ৩টি গুরুত্বপূর্ণ আসনেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন এবিভিপি প্রার্থীরা।
রাহুলের মাস্টারপ্ল্যান ব্যর্থ?
উল্লেখ্য, প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কিছুদিন আগেই যন্তর মন্তরে বিশাল ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, যার জল গড়ায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ পর্যন্ত। রাহুল গান্ধী নিজে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হোস্টেল ও মেসে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপির বিরুদ্ধে হাওয়া তোলার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এই নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট করে দিল, রাহুল গান্ধীর সেই স্ট্র্যাটেজি বা বিরোধীদের ন্যারেটিভ পড়ুয়াদের মন জয় করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
কার দখলে কোন পদ?
দীর্ঘ ভোট গণনার শেষে ছাত্র সংসদের নতুন মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন এবিভিপি-র তরুণ নেতারা:
সভাপতি: এবিভিপি-র যশ দাবাস ২৪,৫৭৬টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি হারিয়েছেন এনএসইউআই-এর বিজয় মীনাকে।
সম্পাদক: বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন এবিভিপি-র রিয়া ছাওড়ি।
যুগ্ম সম্পাদক: জয়লাভ করেছেন এবিভিপি-র লক্ষ্য রাজ সিং।
সহ-সভাপতি: এই আসনটিতে এবিভিপি বা এনএসইউআই নয়, বাজিমাত করেছেন নির্দল প্রার্থী দীপাংশু শোকিন।
বিজয়ী দলের প্রথম বার্তা ও প্রতিশ্রুতি
জয়ের পর উচ্ছ্বসিত এবিভিপি-র নবনির্বাচিত সভাপতি যশ দাবাস জানান, এই জয় জাতীয়তাবাদ ও পড়ুয়াদের ঐক্যের জয়। তাঁদের মূল লক্ষ্য থাকবে দিল্লির সত্য নিকেতনে হোস্টেল/মেস সংক্রান্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি পিজি (PG) ও হোস্টেলের সঠিক “সেফটি অডিট” বা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে পড়াশোনা ও বসবাসের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, চরম পরাজয়ের পর বরাবরের মতোই ভোটগ্রহণে কারচুপি ও রিগিংয়ের অভিযোগ তুলেছে এনএসইউআই। যদিও এবিভিপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে, প্রতিবার হেরে গিয়ে একই অজুহাত দেয় কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন।