খগেনকে মারল কারা? ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ২, কে এই আকরামূল ও গোবিন্দ?

বিপর্যয়-বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর উপর রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনায় অবশেষে দু’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গত সোমবার নাগরাকাটায় এই ‘প্রাণঘাতী হামলা’ চালানো হয়। এই ঘটনায় মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। ৪৮ ঘণ্টা পর এই দু’জনকে গ্রেফতার করা হলেও বাকি ৬ জন দুষ্কৃতী এখনও পলাতক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম আকরামূল হক ও গোবিন্দ শর্মা। নাগরাকাটা ও জয়গাঁও থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) সমীর আহমেদ এই গ্রেফতারির খবর নিশ্চিত করেছেন।
গত সোমবার নাগরাকাটায় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তখনই তাদের উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ অক্ষত থাকলেও, সাংসদ খগেন মুর্মুর অবস্থা গুরুতর হয়। তাঁর চোখের নীচে গলগল করে রক্ত পড়তে দেখা যায়। বিজেপি-র দাবি, হামলার জেরে সাংসদের চোখের নীচের হাড়ে ফাটল ধরেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি এক্স-রে প্লেট পোস্ট করে তারা এই দাবি করে।
এই হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বুধবার তিনি হাসপাতালে খগেন মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেন। রাজ্যপাল হুঁশিয়ারি দেন যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে, সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজ্যপাল এই প্রসঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের কাজ। পশ্চিমবঙ্গে তা ভেঙে পড়ছে। একজন তফশিলি সাংসদকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। এভাবে চলতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, “গুন্ডাদের ভয় পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। সরকারকে পদক্ষেপ করতেই হবে।”
অন্যদিকে, এই হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা রিপোর্ট তলব করেছেন। এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর, যেখানে বিজেপি এনআইএ (NIA) তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ মোদী বনাম মমতা বাকযুদ্ধও তুঙ্গে উঠেছে এই নাগরাকাটা কাণ্ড নিয়ে।