ফেক নিউজ’ ছড়াতেই রাতারাতি কার্ফু জারি কটকে! পরিস্থিতি কী স্বাভাবিক হবে? কতদিন বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট? জানুন প্রশাসনের বার্তা।

দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে রবিবার সন্ধ্যায় ওড়িশার কটক শহরে ভয়াবহ গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩৩ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে আটজন পুলিশ কর্মী এবং বাকিরা সাধারণ নাগরিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতেই শহরে কার্ফু জারি করা হয় এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কেন ছড়াল অশান্তি?
কটকের পুলিশ কমিশনার এস দেব দত্ত সিং জানিয়েছেন, অশান্তির সূত্রপাত রবিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ। একটি সংগঠন পূর্ব অনুমতি ছাড়াই শহরে বাইক মিছিল বের করে। সেই সময় দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা চলছিল। বিনা অনুমতিতে জোর করে বাইক মিছিল করা হলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সংঘর্ষকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ফেক নিউজ ছড়াতে থাকে। এর ফলেই শহরের বিভিন্ন মহল্লায় দ্রুত উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

কার্ফু ও ইন্টারনেট বন্ধ
পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় রাতেই কটক শহরে কার্ফু জারি করা হয় এবং উত্তেজনা প্রশমিত করতে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সোমবার সকাল থেকেই শহরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। চলছে টহল ও ধরপাকড়।

প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কার্ফু বহাল থাকবে। এর পরই তা প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে নতুন করে এখনও শহরে কোনও সংঘর্ষের খবর নেই।

শান্তি বজায় রাখার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর
এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। তিনি কটকবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “এই শহরের শান্তি ও সম্প্রীতির প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। অনুগ্রহ করে সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ প্রশাসনকে সহায়তা করুন।”

অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে ভিএইচপি (VHP) আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার কটক শহরে বনধের ডাক দিয়েছে।