রাহুল তেওয়াটিয়ার ‘ফিনশার রহস্য,’যুবরাজ সিংয়ের শৈলী আর ধোনির ‘ক্যালকুলেশন’ দেখেই তৈরি হয়েছেন এই অলরাউন্ডার

ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম কার্যকর অলরাউন্ডার রাহুল তেওয়াটিয়া তাঁর ব্যাটিং অনুপ্রেরণা হিসেবে কিংবদন্তি ক্রিকেটার যুবরাজ সিং এবং এমএস ধোনিকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। বামহাতি হওয়ায় তিনি যুবরাজের শৈলী অনুসরণ করেন, আর ডেথ ওভারে ধোনির “ক্যালকুলেটেড” ব্যাটিং পদ্ধতি তাঁকে ফিনিশার হতে সাহায্য করেছে।

যুবরাজ ও ধোনির প্রভাব
এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেওয়াটিয়া তাঁর প্রেরণার উৎস ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি বলেন, “আমি যুবরাজ সিংয়ের ব্যাটিং দেখে বড় হয়েছি। বামহাতি ব্যাটসম্যান হওয়ায় তাঁর ব্যাটিং শৈলী আমাকে টানত। এরপর যখন আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিনিশার হিসেবে খেলা শুরু করলাম, এবং আইপিএল-এ সুযোগ পেলাম, তখন মাহি ভাইয়ের (ধোনি) ব্যাটিং খুব দেখতাম। ডেথ ওভারে তিনি কী করেন, তাড়া করার সময় তিনি কীভাবে বোলারদের টার্গেট করেন, কীভাবে তিনি পরিস্থিতি ‘ক্যালকুলেট’ করেন—আমি সেই সব দেখতে শুরু করি। এই দুজনের ব্যাটিং দেখেই আমি প্রচুর সাহায্য পেয়েছি।”

চমকপ্রদ টি-২০ কেরিয়ার ও আইপিএল-এর উত্থান
তেওয়াটিয়া ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। টি-২০ ফরম্যাটে তাঁর পরিসংখ্যান বেশ চিত্তাকর্ষক:

টি-২০ রেকর্ড: এখনও পর্যন্ত ১৬৯টি ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ২,১০৭ রান, যা তিনি ১৪৪.৩১-এর স্ট্রাইক রেটে করেছেন। তাঁর ব্যাটিং গড় ২৬.০১ এবং সেরা স্কোর ৫৯।

বোলিংয়ে দক্ষতা: অলরাউন্ডার হিসেবেও তিনি সমান কার্যকরী। টি-২০-তে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৬৯টি উইকেট, যেখানে তাঁর সেরা বোলিং ফিগার ৩/৪।

আইপিএল-এ আলোড়ন: তেওয়াটিয়া প্রথম নজর কাড়েন ২০২০ সালে, যখন রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ২২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তিনি ৮ বলে ১৯ রান করার পর এক ওভারে পাঁচটি ছক্কা মেরে দলকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন।

গুজরাট টাইটানসের নায়ক: ২০২২ সালে গুজরাট টাইটানসের (GT) হয়ে খেলার সময়, শেষ ২ বলে ১২ রানের প্রয়োজন ছিল যখন তিনি পরপর দুটি ছক্কা মেরে দলকে জেতান। সেই বছর টাইটান্স আইপিএল শিরোপা জেতে, যেখানে তেওয়াটিয়ার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে তিনি রাজস্থান রয়্যালস, পাঞ্জাব কিংস এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়েও খেলেছেন।

সাফল্য-ব্যর্থতায় অভিন্ন মানসিকতা
তেওয়াটিয়া তাঁর দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য ক্রিকেটে একটি সুসংগত মানসিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতির ওপর মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি উপসংহারে বলেন, “আমার মতে, সাফল্য হোক বা ব্যর্থতা, সবসময় একইরকম থাকা উচিত। দ্রুত আউট হলে খারাপ লাগা স্বাভাবিক, কিন্তু আমি মনে করি আমাদের প্রক্রিয়া এবং অনুশীলনের ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। পরের ম্যাচে আপনাকে নতুন করে শুরু করতে হবে। আপনি রান করুন বা আউট হন, আপনাকে পরের খেলায় শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। তাই, দুই সময়েই আপনাকে একই মানুষ থাকতে হবে।”