দশমীর বিষাদ! প্রতিমা বিসর্জনের সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, খাদে উল্টে গেল ট্র্যাক্টর, মৃত্যু ১১ পুণ্যার্থীর

বিজয়া দশমীর দিন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হলেন ১১ জন পুণ্যার্থী। দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের সময় ট্র্যাক্টর-ট্রলি পুকুরে উল্টে যাওয়ায় মধ্যপ্রদেশের খাণ্ডওয়া জেলায় মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের, যার মধ্যে সাতজনই নাবালিকা। পান্ধানা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নবদুর্গাপূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ট্র্যাক্টর-ট্রলিতে প্রায় ৩০ জন ভক্ত প্রতিমা নিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুকুরের গভীরতা নিয়ে গ্রামবাসী সতর্ক করলেও সেই কথা উপেক্ষা করা হয়। একসময় প্রতিমা বোঝাই ট্র্যাক্টরটি কাত হয়ে গভীর জলে পড়ে যায়।
খাণ্ডওয়ার জেলাশাসক ঋষভ গুপ্তা জানান, পুলিশ, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), হোম গার্ড, স্থানীয় ডুবুরি এবং গ্রামবাসীদের নিয়ে অবিলম্বে যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। তিনি বলেন, “১১ জন ভক্তের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ১০-১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।”
পুলিশ সুপার মনোজ কুমার রাই নিশ্চিত করেছেন যে নিহতদের মধ্যে ৭ জন মেয়ে। মৃতদের পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে: আরতি (১৮), উর্মিলা (১৬), শর্মিলা (১৫), কিরণ (১৬), পাটলি (২৫), সঙ্গীতা (১৬), চন্দা (৮), দীনেশ (১৩), গণেশ (২০), রেভসিংহ (১৩) এবং আয়ুষ (৯)।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় আত্মীয়-পরিজন ও গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি দল পৌঁছানোর আগেই অনেকে হাহাকার করতে করতে লোকজনকে জল থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলে ভিড় করেন বহু মানুষ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে “গভীরভাবে দুঃখজনক” বলে অভিহিত করেছেন। এক্স-বার্তায় তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের নিকটাত্মীয়দের জন্য ২ লাখ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবও শোক প্রকাশ করেছেন এবং মৃতদের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা করে এক্স-গ্রেশিয়া দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।