বৃষ্টির চোখরাঙানি উপেক্ষা! ‘মাটির টানে মায়ের কাছে’ থিমে সেজে উঠল পশ্চিম মেদিনীপুর, ভিড় জমাল দেউলী যুবতীর্থ।

আবহাওয়া অফিসের বৃষ্টির আশঙ্কা সত্ত্বেও সপ্তমীর দিন বিকেল থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুরের আবহাওয়া পরিষ্কার। স্বাভাবিকভাবেই, পুজো শুরুর আগেই অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকেই বিভিন্ন প্যান্ডেলগুলিতে ভিড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে রবিবার সন্ধ্যা থেকে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
এবারের দুর্গাপূজায় জেলা জুড়ে নানান থিমের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার দেউলী যুবতীর্থ ক্লাব-এর থিম বিশেষ নজর কেড়েছে। ক্লাবের ৩৮তম বর্ষে এবারের থিম হলো ‘মাটির টানে মায়ের কাছে’।
বাঙালিয়ানার প্রতীকী সজ্জা
প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার এই পুজোয় বেশ কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করে বাঙালিয়ানাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মণ্ডপের সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে বাংলার নানা ধরনের শিল্পকর্ম।
মণ্ডপে ঢোকার মুখেই চোখে পড়বে দুর্গার মুখ থেকে লক্ষ্মীপ্যাঁচার অবয়ব এবং ত্রিশূল দিয়ে সাজানো শিল্পকর্ম।
ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা মিলবে বাংলার পটচিত্র, সরার উপর বিভিন্ন ধরনের ইন্ডিয়ান পেইন্টিং, হাঁড়ি, কুলো এবং তালপাতার পাখা দিয়ে মনোজ্ঞ সাজসজ্জা।
বাঁশ এবং মাটির ছোট ছোট কাপ দিয়েও মণ্ডপের ভিতরের অংশ সাজিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিমাকেও মণ্ডপের থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে।
গ্রামীণ এলাকায় উৎসবের আমেজ
দেউলী যুবতীর্থ ক্লাব প্রতি বছরই অভিনব থিমে চমক দিয়ে এলেও, এই বছর বাংলার কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যের প্রতীকী উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের মন জয় করেছে। বাহারি আলোকসজ্জা এবং এই অভিনব থিমের টানে ষষ্ঠী থেকেই প্যান্ডেলে ভিড় জমতে শুরু করেছে।
এদিকে, বেলদারই অন্য একটি পুজো— নবীন প্রবীণ ক্লাবের পঞ্চাশ বছরের পুজোয় বিশাল এক রাজস্থানের স্থাপত্যকে প্যান্ডেলে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। দুটি ভিন্ন ধারার থিমের টানেই গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
প্রশাসনের তরফেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকায় উদ্যোক্তারা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাকি কটা দিন ব্যাপক ভিড় হবে এবং নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে পুজো উদযাপিত হবে।