মোদি সরকারের নিষিদ্ধ করা ‘তিন তালাক’ প্রথা ফিরল হোয়াটসঅ্যাপে! উত্তরপ্রদেশে পণের দাবিতে চরম হেনস্থার শিকার নববধূ।

কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৯ সালে ‘তিন তালাক’ প্রথা নিষিদ্ধ করলেও, উত্তরপ্রদেশে পণের দাবিতে সেই নিষিদ্ধ প্রথার চরম অপব্যবহারের আরও একটি ঘটনা সামনে এল। উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরের বাসেরা গ্রামে এক যুবক তাঁর স্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে ‘তিন তালাক’ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
হোয়াটসঅ্যাপে তালাক, পণের দাবি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসমা নামের এক যুবতী তাঁর স্বামী হাসান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। আসমা জানান, ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আরও পণের দাবিতে তাঁকে চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। সেই অত্যাচারেরই শেষ পরিণতি হিসেবে স্বামী হাসান তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তিন তালাক দিয়েছেন।
আসমা রবিবার তাঁর স্বামী ছাড়াও শাশুড়ি, দুই দেওর সালিম ও শাকিরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত যুবক হাসান বর্তমানে পলাতক, তাঁর খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
মোদি-যোগী’র প্রশংসায় ফুটন্ত ডাল
প্রসঙ্গত, গত বছর উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলাতেও ‘তিন তালাক’ সংক্রান্ত আরও এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল। গত বছর ডিসেম্বরে বিয়ের পর অযোধ্যা ধাম ঘুরতে গিয়েছিলেন এক তরুণী। অযোধ্যার উন্নয়ন দেখে তিনি স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সামনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রশংসা করেছিলেন।
এই প্রশংসাই কাল হয়ে দাঁড়ায়! মোদি ও যোগীর প্রশংসা শুনেই স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তরুণীর মুখে ফুটন্ত ডাল ছুড়ে মারেন। এরপর সকলের সামনে স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল।
ওই তরুণী সোশ্যাল মিডিয়াতেও শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান, বিয়ের পর থেকে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন করত। খুনের হুমকির অভিযোগও এনেছিলেন তিনি। সেই ঘটনায় স্বামী সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন, খুনের হুমকি, পণের জন্য অত্যাচার এবং মুসলিম মহিলা (সংরক্ষণ) আইনে মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। তবে সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানা গেছে।