AI-এর হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দুর্গাপ্রতিমা! ChatGPT দিয়ে প্যান্ডেল ডিজাইন, ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রযুক্তির যুগলবন্দি এবার পুজোয়

শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য আর আধুনিক প্রযুক্তির যুগলবন্দিতে এবার কলকাতার (Kolkata’s Durga Puja) শারদ উৎসব জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এক নতুন উন্মাদনা। যেখানে এতদিন প্রতিমা গড়ার কল্পনা শুরু হতো কারিগরের তুলির আঁচড়ে, সেখানে এখন যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর অসাধারণ সহায়তা। থিম, প্যান্ডেল, প্রতিমার নকশা—সব ক্ষেত্রেই এখন এআই বড় ভূমিকা নিচ্ছে।

কুমোরটুলিতেও এখন এআই-এর নকশা
প্রতি বছর দুর্গাপূজার প্রস্তুতি শুরু হয় কুমারটুলির অলিগলিতে। খড়, কাদা, বাঁশ ও রঙের ছোঁয়ায় দেবীর শক্তির প্রতিমূর্তি গড়ে ওঠে। কিন্তু এ বছর সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি।

৭০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ মৃৎশিল্পী মস্তি পাল বলেন, “এখন আর শুধু মুখের কথায় বা হাতে আঁকা নকশার উপর নির্ভর করতে হয় না। পুজো কমিটিগুলি এআই অ্যাপ ব্যবহার করে আমাদের ছবি দেখায়। আমরা সেই অনুযায়ী প্রতিমার রূপ তৈরি করি।”

শুধু প্রতিমা নয়, প্যান্ডেল ডিজাইন ও থিম তৈরিতেও এআই ব্যবহার হচ্ছে। অনেক কমিটি এবার ChatGPT ও অন্যান্য ইমেজ জেনারেটর টুল ব্যবহার করে প্যান্ডেল সাজানোর নতুন ধারণা নিয়েছে। এর ফলে দর্শনার্থীরা পাচ্ছেন একেবারে ভবিষ্যতের ছোঁয়া।

থিম এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা!
উত্তর কলকাতার শতবর্ষী একটি পুজো কমিটির সম্পাদক সুবল পাল জানান, তাঁরা এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই থিম হিসেবে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “ChatGPT ও এআই টুল ব্যবহার করে প্যান্ডেল ও প্রতিমার নকশা তৈরি করেছি। থিমে থাকছে বিশাল কীবোর্ড, ঝলমলে আলো এবং দুই রোবট প্রহরী।”

ভারতে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৯০০ মিলিয়ন। এআই-র এই সহজলভ্যতাই দুর্গাপুজোর মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে আরও আধুনিক ও সৃজনশীল করে তুলছে।

আশীর্বাদ না অভিশাপ?
প্রযুক্তির এই আগমন নিয়ে অবশ্য মতভেদও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন এটি পুজোর শিল্পকে আরও উন্নত করছে, আবার কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন—কারিগরদের ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে পারে। সুবল পাল বলেন, “পুরনো ধারা বদলাচ্ছে। এটা আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ, সেটা সময়ই বলবে।”

সংস্কৃত গবেষক অজয় ভট্টাচার্য মনে করেন, প্রযুক্তির সঙ্গে এই মেলবন্ধন উৎসবকে আরও আধুনিক ও বিশ্বমানের করে তুলছে। তাঁর মতে, এটি ঐতিহ্য, শিল্প ও বিজ্ঞান—তিনেরই মিলন। এবারের পুজোয় সেই প্রযুক্তির ছোঁয়া শুধু আলোকসজ্জায় নয়, বরং প্রতিমার চোখের ভঙ্গি থেকে প্যান্ডেলের প্রতিটি ধাপেও ছড়িয়ে পড়েছে।