রাহুল গান্ধী এখন দক্ষিণ আমেরিকায়! কংগ্রেস বলছে ‘ঐতিহাসিক কূটনীতি’, বিজেপির তোপ— ‘এটা দেশবিরোধী গ্লোবাল অ্যালায়েন্স তৈরির চেষ্টা’

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শনিবার চারটি দক্ষিণ আমেরিকার দেশে সফরে রওনা হয়েছেন। তাঁর এই সফর ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস এই সফরকে ভারতের বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে তুলে ধরলেও, বিজেপি একে সরাসরি ‘দেশবিরোধী গ্লোবাল অ্যালায়েন্স’ গড়ার প্রচেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছে।

কংগ্রেসের দাবি: গণতান্ত্রিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক মজবুত করাই লক্ষ্য
কংগ্রেসের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান পবন খেরা এই সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, রাহুল গান্ধী ব্রাজিল এবং কলোম্বিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে “গণতান্ত্রিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত” করার চেষ্টা করবেন।

কংগ্রেসের বিবৃতি অনুসারে, এই সফর “ঐতিহাসিক তাৎপর্যময়”। দলের দাবি, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM) এবং গ্লোবাল সাউথের সংহতির মাধ্যমে ভারত ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে যে ঐতিহাসিক বন্ধন, এই সফর তাকে নতুনভাবে উজ্জ্বল করবে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক-সংক্রান্ত সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত যখন বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে বৈচিত্র্যময় করতে চাইছে, তখন ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সঙ্গে রাহুলের এই বৈঠক বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিজেপির পাল্টা অভিযোগ: জর্জ সোরোস ও গোপন অভিসন্ধি
অন্যদিকে, বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী রাহুলের এই সফরের সময় এবং উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “রাহুল গান্ধী আবার বিদেশ সফরে! … এবার বুঝি কোনো দেশবিরোধী ব্যক্তির সঙ্গে গোপন বৈঠক করবেন?”

ভাণ্ডারীর অভিযোগের মূল লক্ষ্য হলো বিলিয়নেয়ার জর্জ সোরোস। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস নেতা নাকি সোরোসের “নির্দেশে” কাজ করছেন এবং “ভারত রাষ্ট্র ও ভারতের গণতন্ত্রের বিরোধিতা” করার উদ্দেশ্যেই একটি গ্লোবাল অ্যালায়েন্স গড়ে তুলতে চাইছেন।

বিজেপি এই সফরের সময়ের সঙ্গে লাদাখের ঘটনাকে যুক্ত করেছে। তাদের বক্তব্য, লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (NSA) গ্রেফতার করার ঠিক পরই রাহুল গান্ধী দক্ষিণ আমেরিকা সফরে রওনা হলেন। বিজেপির অভিযোগ, ওয়াংচুক রাহুলের “আদর্শগত সহযোদ্ধা”। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক লেহ-র সহিংসতায় কংগ্রেস সমর্থিত এক কাউন্সিলর বিজেপি অফিসে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ বিজেপির।

রাজনৈতিক চাপান-উতোর
বিজেপির এই অভিযোগকে কংগ্রেস সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, বিরোধী দল হিসেবে ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখা রাহুল গান্ধীর দায়িত্ব। তাদের দাবি, দক্ষিণ আমেরিকায় রাহুলের এই আলাপ-আলোচনা ভারতের আন্তর্জাতিক উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এখন এই সফরের দিকে কড়া নজর রাখছেন। রাহুল গান্ধীর এই ‘গ্লোবাল আউটরিচ’ সত্যিই ভারতের কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সাফল্য আনে, নাকি দেশের বাইরে গিয়ে বিরোধী জোট তৈরির বিজেপির অভিযোগ সত্যি হয়, সেটাই এখন দেখার।