পুজোর আগেই জমে গেল সিআর পার্কের মেজাজ! কীভাবে পূর্ব পাকিস্তানের ছিন্নমূলদের হাত ধরে শুরু হলো দিল্লির সবচেয়ে বড় দুর্গাপূজা?

দেশের জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে দুর্গাপূজা মানেই একটি নাম—চিত্তরঞ্জন পার্ক (সিআর পার্ক)। স্থানীয়ভাবে ‘মিনি বাংলা’ নামে পরিচিত এই পাড়াটি উৎসবের দিনগুলিতে যেন পশ্চিমবঙ্গেরই এক টুকরো প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। নতুন জামাকাপড়ের সৌরভ, মাছ ভাজার সুঘ্রাণ, আর ফুচকা-রোল-মিষ্টির ভিড়ে এই এলাকা এখন বাঙালির সেরা ঠিকানা।
তবে, বর্তমানের এই ঝকঝকে সিআর পার্কের ইতিহাস কিন্তু বেশ চ্যালেঞ্জিং। একসময় এই এলাকা ছিল সম্পূর্ণ বনভূমি এবং ডাকাতি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এমনকি মাটি খুঁড়লে কঙ্কাল পর্যন্ত পাওয়া যেত—সেই সময়ের বাসিন্দাদের জীবনধারণ ছিল কঠিন। পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস জোগাড় করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
ছিন্নমূলদের কলোনি থেকে সিআর পার্ক
১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে বাঙালিরা এই অঞ্চলে ভিড় জমাতে শুরু করে। বেশিরভাগই ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে আসা বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি। সেই সময় কলোনির নাম ছিল ‘ইপিডিপি কলোনি’।
১৯৭০-এর দশকের গোড়ার দিকে মুষ্টিমেয় কিছু বাঙালিকে নিয়ে এই কলোনিতে দুর্গাপূজা শুরু হয়। চিত্তরঞ্জন পার্ক কালী মন্দির সোসাইটির সভাপতি প্রদীপ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, “যখন ইপিডিপি কলোনি প্রতিষ্ঠিত হয়, তখনই বাঙালিরা দুর্গাপূজা উদযাপনের কথা ভাবতে শুরু করে। প্রথম পূজাটি ১ নম্বর মার্কেটের বিপরীতে একটি ছোট পার্কে শুরু হয়েছিল।”
ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎসব স্থানান্তরিত হয় বর্তমান কালীমন্দিরের জায়গায়, যা একসময় কেবল একটি টিলা বা পাহাড় ছিল। ১৯৭৩ সালে এখানে শিব মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং তার পরপরই কালী মন্দির সোসাইটির নিবন্ধন হয়।
অনাবাসীদের সবচেয়ে বড় পুজো
বর্তমানে ৫৩ বছরে পদার্পণ করেছে সিআর পার্কের দুর্গাপূজা। প্রদীপ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি অনুসারে, এটি রাজ্যের বাইরে অর্থাৎ অনাবাসী বাঙালিদের সবচেয়ে বড় দুর্গাপূজা। এখন এই কালীমন্দিরে দিল্লির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে সেলিব্রিটিরাও ভিড় জমান।
পূজা এখনও পুরোপুরি শুরু না হলেও, বোধনের দিনেই মণ্ডপগুলোতে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। শাড়ি আর পাঞ্জাবির ছড়াছড়িতে রাস্তাঘাটের ছবি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। সেই বনভূমি আর কঙ্কালের অতীতকে পিছনে ফেলে সিআর পার্ক আজ ঐতিহ্য ও স্মৃতির এক স্পন্দন, যা ধীরে ধীরে মিশে গিয়েছে রাজধানীর মূল স্রোতের সঙ্গে।
দিল্লির সিআর পার্কের এমন একটি পুজো সম্পর্কে আপনার স্মৃতি বা অভিজ্ঞতা কেমন? আমাদের জানাতে পারেন।