রামমোহন সম্মিলনীতে নস্টালজিয়া! ‘ডাফলিওয়ালে’ গানে নাচলেন জয়া প্রদা, মঞ্চে বসেই ফাঁস করলেন ‘মমতাদি’র গোপন গল্প!

উৎসবের আবহে নস্টালজিয়া, আবেগ আর কিছুটা রাজনৈতিক স্মৃতিচারণ! রামমোহন সম্মিলনীর দুর্গাপূজা মণ্ডপে এসে সম্পূর্ণ অন্য মেজাজে দেখা গেল ডাকসাইটে অভিনেত্রী এবং প্রাক্তন সাংসদ জয়া প্রদাকে। শুধুমাত্র ভিড়ের আবদার মেটানোই নয়, তিনি নিজেই যেন ডুব দিলেন পুরনো দিনের স্মৃতিতে।

‘ডাফলিওয়ালে’ গানে পা মেলালেন জয়া প্রদা
মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। কুণাল ঘোষ জয়া প্রদার সৌন্দর্যের প্রশংসা করে বলেন, “জয়াজি, বলিউডে অনেক নায়িকা হিট, তাঁদের শ্রদ্ধা করি। কিন্তু সবচেয়ে সুন্দর কিন্তু আপনিই।”

এরপরই তাঁর অনুরোধে জনপ্রিয় হিন্দি গান ‘ডাফলিওয়ালে’ বাজানো হয়। দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে, নৃত্যশিল্পী জয়া প্রদা মঞ্চে সেই গানের তালে সামান্য কয়েক ঝলক পা মিলিয়ে দেন। তাঁর এই অনবদ্য পারফরম্যান্সে উৎসবের আমেজ যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

‘মমতাদিকে আমি শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি’
মঞ্চে এসে অভিনেত্রী তাঁর প্রাক্তন সহকর্মী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাটানো এক বিশেষ মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেন। জয়া প্রদা যখন লোকসভার সাংসদ, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন ছিল, সেই গল্পই শোনালেন তিনি।

জয়া প্রদা বলেন, “আমি তখন লোকসভায়। মমতাদি আমাকে খুব পছন্দ করতেন। আমিও ওঁর ‘ফাইটিং স্পিরিট’ পছন্দ করতাম।” এরপর তিনি একটি ব্যক্তিগত ঘটনার কথা বলেন, যা তিনি আজও ভোলেননি:

“একদিন লোকসভার মধ্যেই মমতাদি আমাকে ডাকলেন—’জয়া এদিকে এসো’। আমি ওঁর কাছে গেলাম। ওখানে বসেই মমতাদি আমার কী সুন্দর স্কেচ এঁকে দিলেন! আমার সেদিন চুল খোলা ছিল। মমতাদির ওই চটজলদি আঁকা সুন্দর ছবিটা কখনও ভুলব না।”

রাজনৈতিক দল আলাদা হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা একই রকম আছে বলেও জানান জয়া প্রদা। উল্লেখ্য, জয়া প্রদা একসময় তেলুগু দেশম ও পরে সমাজবাদী পার্টির টিকিটে সাংসদ হয়েছিলেন।

মঞ্চে সাবেক এই অভিনেত্রীর আবেগতাড়িত স্মৃতিচারণ এবং নাচের ঝলক, রামমোহন সম্মিলনীর পুজোকে এক অন্য মাত্রা এনে দিল।