৫০ ফুটের গাছ কাটতেই কেঁপে উঠল মাটি! শিকড়ের নিচে ‘গুপ্তধন’ ভেবে ছুটল গ্রামবাসী, যা বেরোল তাতে চমকে উঠল গোটা বিশ্ব!

জঙ্গলের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জলাভূমি পরিস্কার করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন এক কৃষক। তিনি যখন ৫০ ফুট উচ্চতার একটি গাছ কাটছিলেন, তখনই ঘটে এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড। গাছটি শিকড় সমেত উপড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিচ থেকে বেরিয়ে এল ৭টি বিরাট পাত্র, যার আকৃতি ছিল অনেকটা মাটির জালার মতো।

প্রথমটায় কৃষক ও স্থানীয়রা ভেবেছিলেন, হয়তো কোনও গুপ্তধন বা মোহর ভর্তি কলসি বেরিয়েছে। কিন্তু পাত্রগুলি পরীক্ষা করে দেখা গেল, তাতে কোনও গুপ্তধন ছিল না। তবে যা ছিল, তা গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো।

মাটির পাত্রে মানব দেহাবশেষ, সঙ্গে মাছ ও কচ্ছপের হাড়!
গাছ পড়ার শব্দ শুনে স্থানীয় অধিবাসীরা ছুটে আসেন। শিকড়ের নিচে পোঁতা সেরামিকের তৈরি ৭টি বিশাল কলসি দেখে তাঁরাও অবাক হয়ে যান। চমকের মাত্রা আরও বাড়ে যখন দেখা যায়— পাত্রগুলির মধ্যে রয়েছে মানব দেহাবশেষ!

এছাড়াও, মাছ, ব্যাঙ ও কচ্ছপের কিছু হাড়গোড়ও নৈবেদ্য হিসাবে পাত্রগুলির মধ্যে রাখা ছিল। জানা যায়, সবচেয়ে বড় পাত্রটির ওজন ছিল প্রায় ৩৫০ কেজির কাছাকাছি! স্থানীয়রা দ্রুত পাত্রগুলি উদ্ধারের পর সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অ্যামাজনের আদিবাসীদের ২ হাজার বছরের পুরনো প্রথা
খবর পেয়ে প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি দল ঘটনাস্থলে হাজির হয়। তাঁরা পাত্রগুলি ভেঙে ভিতরের বস্তু পরীক্ষা করে দেখেন। গবেষণায় জানা যায়, এই আবিষ্কার প্রায় ২ হাজার বছর পুরনো। পাত্রগুলি পাওয়া গেছে মধ্য সোলিমোয়েস অঞ্চলের একটি কৃত্রিম দ্বীপে, যা আদিবাসীরাই তৈরি করেছিলেন।

গবেষকরা মনে করছেন, এসব দেহাবশেষ সম্ভবত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অংশ ছিল। দক্ষিণ আমেরিকার অনেক আদিবাসী সংস্কৃতিতে প্রয়াত ব্যক্তিদের দেহাবশেষ এভাবে কলসিতে ভরে রাখার চল ছিল।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, পাত্রগুলির মুখ একসময় কোনও পচনশীল জৈব পদার্থ দিয়ে আটকানো ছিল, যা পরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পচে যাওয়ায় এখন আর তার কোনও চিহ্ন নেই। পাত্রগুলি সবুজ কাদামাটি দিয়ে ঢাকা এবং সেগুলির গায়ে লাল ডোরাকাটা দাগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরকালে প্রয়াতদের খাওয়ার সুবিধার জন্য নৈবেদ্য হিসাবে বিভিন্ন প্রাণীর হাড়গোড় সঙ্গে দেওয়া হত। এই অভিনব আবিষ্কার অ্যামাজনের আদিবাসীদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং ধর্মীয় প্রথা সম্পর্কে বিশ্বকে এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করল।