“এক ব্যক্তি-এক টোটো”-অবৈধ টোটো ধরবে পুলিশ, রেজিস্ট্রেশন না করলে চিরতরে বন্ধ!

উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে ঘিঞ্জি শহর শিলিগুড়ির দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে টোটোর লাগামছাড়া চলাচল। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এই ক্ষোভের সমাধানে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য পরিবহন দফতর। বিশৃঙ্খলা রুখতে এবং শহরে শৃঙ্খলা ফেরাতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এই সমস্যা সমাধানে বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি পুরনিগমে একটি জরুরি বৈঠক করেন মেয়র গৌতম দেব। বৈঠকে ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার, ট্রাফিক ডিসিপি-সহ পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন। রাজ্য পরিবহন দপ্তরের কর্তারা ভার্চুয়ালি এই আলোচনায় যোগ দেন।

QR কোড এবং রুটম্যাপে লাগাম
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, এবার থেকে প্রতিটি টোটোর জন্য আলাদা পরিচয়পত্র তৈরি হবে এবং টোটোগুলির গায়ে একটি করে QR কোড লাগানো থাকবে। এই কোড স্ক্যান করলেই জানা যাবে, নির্দিষ্ট কোন রাস্তায় ওই টোটো চলাচল করতে পারবে।

যানজট নিরসনে পৌরসভা ও শহরাঞ্চলগুলিকে ৩০শে সেপ্টেম্বর-এর মধ্যে টোটোর রুটম্যাপ প্রস্তুত করে পরিবহন দপ্তরে পাঠাতে হবে। এরপর সেই রুটম্যাপ অনুযায়ী টোটো চলাচলের নিয়ম বেঁধে দেওয়া হবে। মেয়র গৌতম দেব জানান, শিলিগুড়ি পুরনিগম ইতিমধ্যেই পুলিশের সহযোগিতায় ৮৫টি রুটম্যাপ তৈরি করেছে, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া হবে। বর্তমানে শিলিগুড়িতে প্রায় ৫ হাজার বৈধ টোটো রয়েছে।

অবৈধ টোটোয় নিষেধাজ্ঞা ও অনলাইন রেজিস্ট্রেশন
শিলিগুড়ির রাস্তায় বৈধ টোটোর পাশাপাশি বহু অবৈধ টোটোও চলাচল করে। নতুন নিয়ম চালু হলে শুধুমাত্র বৈধ নথিপত্র থাকা চালকরাই টোটো চালাতে পারবেন।

রাজ্য পরিবহন দফতর জানিয়েছে, ৩০শে সেপ্টেম্বরের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে টোটো রেজিস্ট্রেশনের জন্য একটি অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হবে। টোটো চালকদের সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হবে। যারা এই সময়ের মধ্যে আবেদন করবেন না, তারা আর টোটো চালাতে পারবেন না। প্রয়োজনে চালকেরা নিকটবর্তী আরটিও অফিসে গিয়ে আবেদন প্রক্রিয়ায় সাহায্য নিতে পারবেন।

মেয়র গৌতম দেব বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “শহরে টোটো নিয়ে যেভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে, তা রুখতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। সময়সীমা বেঁধে দিয়ে, রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করেই আমরা শৃঙ্খলা ফেরাতে চাই।” রাজ্য জুড়ে একই প্রক্রিয়া কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের টোটো বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছে প্রশাসন।