‘এসওপি মানা হয়নি, ১৪ নম্বর ধারা অমান্য করা হয়েছে’, পোস্টিং বিতর্কে রাজ্যকে কড়া বার্তা হাইকোর্টের

আন্দোলনকারী চিকিৎসক অনিকেত মাহাতোকে অবশেষে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজেই পোস্টিং দিতে হবে, এমন নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এর আগে জুলাই মাসে আদালত অনিকেতের আবেদনের শুনানি হাইকোর্টেই হবে বলে জানিয়েছিল, যা রাজ্য সরকারের কাছে ছিল প্রথম ধাক্কা। আজ, বুধবার, বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এই রায় রাজ্যের সিদ্ধান্তকে বাতিল করে দিল।

কেন মামলা দায়ের করেছিলেন অনিকেত?
চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো-সহ আরও তিন জন চিকিৎসক পোস্টিং বিতর্কে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, পোস্টিংয়ের সময় তাদের মেধা তালিকা এবং শূন্যপদ অনুযায়ী পোস্টিং দেওয়া হয়নি। অনিকেত মাহাতো মেধাতালিকায় ২৪ নম্বরে থাকা সত্ত্বেও তাকে আর জি করের পরিবর্তে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল। অথচ, তার চেয়ে কম র‍্যাঙ্ক থাকা দুজন চিকিৎসককে আর জি করেই পোস্টিং দেওয়া হয়।

বিচারপতির পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার সোপ (SOP) না মেনে সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা (আইনের চোখে সমান অধিকার) লঙ্ঘন করেছে। আদালত মনে করে, রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য যুক্তি দিতে পারেনি।

অনিকেত ছাড়াও আরও দুই চিকিৎসক, দেবাশিস হালদার ও আসফাকুল্লা নাইয়া, তাদের পোস্টিং নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন। দেবাশিসকে হাওড়ার বদলে মালদায় এবং আসফাকুল্লাকে আরামবাগের বদলে পুরুলিয়ার হাসপাতালে পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল। এই রায়ের পর অনিকেত মাহাতোর মতো অন্যান্য প্রতিবাদী চিকিৎসকদেরও আশা জাগল।