আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা, ট্যাংরার বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে তরুণীর আত্মহত্যা!

কলকাতায় আবারও বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল। এবার ঘটনাস্থল ট্যাংরা এলাকার একটি বহুতল। সোমবার সকালে বহুতলের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় ২৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে। পরে জানা যায়, ওই তরুণীর নাম গরিমা লোধ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ ট্যাংরার বহুতল থেকে কিছু পড়ার শব্দ শুনে নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটে আসেন। তারা দেখেন এক তরুণী রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে এবং আবাসনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে। জানা যায়, গরিমা ওই বহুতলের ২৫ তলায় থাকতেন।

কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রবিবার রাতে পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে গরিমা নিজের ঘরে ঘুমোতে যান। তখন তার আচরণ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু সকালে তিনি ২৫ তলা থেকে ঝাঁপ দেন। ঠিক কী কারণে তিনি এমন চরম পদক্ষেপ নিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে গরিমাকে ২৫ তলার জানালা থেকে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে। তার ঘর থেকে আধখাওয়া মদের বোতল ও কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, মানসিক অবসাদ থেকেই তিনি এমন কাজ করে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

আবাসনের বাসিন্দারা গরিমার মৃত্যুতে হতবাক। তারা জানান, গরিমা একজন হাসিখুশি মেয়ে ছিলেন। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর কলকাতার আনন্দপুর থানা এলাকার একটি অভিজাত আবাসনের ১৯ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে সঞ্চিতা আগরওয়াল নামে এক বধূ আত্মহত্যা করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুর কারণও মানসিক অবসাদ বলে মনে করা হচ্ছে।

আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়

যদি আপনার মধ্যে কখনও আত্মহত্যার চিন্তা আসে বা আপনার কোনও বন্ধু বা পরিচিত এই সমস্যায় জর্জরিত হন, তাহলে ভেঙে পড়বেন না। এমন অনেকেই আছেন যারা আপনার পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত। সাহায্য পেতে দিনের যেকোনো সময় 044-24640050 নম্বরে কল করুন স্নেহা ফাউন্ডেশনে। এছাড়াও টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সের হেল্পলাইন নম্বরে (9152987821) ফোন করতে পারেন, যা সোমবার থেকে শনিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে।