‘বাবার বাড়ি যাব’ বলে বেরিয়েছিল, ঘরের ভিতর মিলল মা-মেয়ের ঝুলন্ত দেহ! রহস্য ঘনীভূত কালনার গুপ্তিপুরে

লোনের কিস্তি এবং বিদ্যুতের বিল হাতে নিয়েও কেন আত্মহত্যা করলেন এক গৃহবধূ? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে কালনার সিমলন গ্রামের গুপ্তিপুর এলাকায়। রবিবার সকালে এই গ্রামের এক বাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সী সোমা হেমব্রম এবং তার পাঁচ বছরের মেয়ে সোহিনী হেমব্রমের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মেয়েকে খুন করে নিজেও আত্মঘাতী হয়েছেন সোমা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার সকালে বাড়ির অন্য সদস্যরা যখন নিজেদের কাজে ব্যস্ত, তখনই ঘরের ভিতর এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। মৃতার শাশুড়ি জানান, সোমা এদিন বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বলেছিল। এমনকি তিনি নিজেই পুত্রবধূকে লোনের কিস্তির টাকা এবং বিদ্যুতের বিলের টাকা হাতে দিয়েছিলেন। এরপর তিনি কাজে বেরিয়ে যান।
কয়েক ঘণ্টা পর বাড়িতে ফিরে এসে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন, মা ও মেয়ের নিথর দেহ ঝুলছে। এই দৃশ্য দেখে তিনি চিৎকার করে ওঠেন। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
পরিবারের দাবি, তাদের মধ্যে কোনো পারিবারিক অশান্তি বা ঝগড়াঝাঁটি ছিল না। সোমার স্বামী কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে থাকেন। তাই ঠিক কী কারণে সোমা এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
কালনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক এবং চাঞ্চল্য।