মেসোর হাতে খুন! মুম্বাইয়ে কিশোরীকে গলা কেটে নৃশংস হত্যা, কিন্তু কেন? রহস্যের কিনারা খুঁজছে পুলিশ

আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ঘাতক মেসোমশাইয়ের নৃশংসতার শিকার হলো ১৭ বছরের এক কিশোরী। অভিযোগ, মুম্বাইয়ের ভাড়া বাড়িতে গলা কেটে তাকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বসিরহাটের স্বরূপনগরের ওই কিশোরীর পরিবারে এখন শোকের মাতম।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ব্যক্তি জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছেন। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, পারিবারিক বিবাদ অথবা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কোনো বিরোধের জেরেই এই খুন হয়ে থাকতে পারে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

কী ঘটেছিল?

বসিরহাটের স্বরূপনগরের বাসিন্দা ওই কিশোরীর বাবা গত আট বছর ধরে মুম্বাইয়ে কাজ করেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সেখানেই থাকেন তিনি। সংসারের অভাব মেটাতে কিশোরীর মা-ও পরিচারিকার কাজ করতেন। গত শুক্রবার বাবা-মা দুজনেই কাজের জন্য বাইরে ছিলেন। ছোট ভাই পাশের বাড়িতে ছিল। এই সুযোগে অভিযুক্ত মেসোমশাই তাদের বাড়িতে আসেন।

অভিযোগ, সদর দরজা বন্ধ থাকায় প্রথমে জানলা দিয়ে ডাকেন তিনি। পাশের এক মহিলা বিষয়টি লক্ষ্য করলেও কিছু সন্দেহ করেননি। দীর্ঘ দিন পর মেসোমশাইকে দেখে সরল মনে দরজা খুলে দেয় ওই কিশোরী। এরপর তার জন্য রান্নাঘরে চা করতে যায়। অভিযোগ, সেই সুযোগে পিছন থেকে প্রেসার কুকার দিয়ে মাথায় আঘাত করেন অভিযুক্ত। কিশোরী অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলে ছুরি দিয়ে গলা কেটে খুন করেন তিনি। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

বিকালে বাবা-মা বাড়ি ফিরে মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পান। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই খবর গ্রামে পৌঁছতেই নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের দাবি, এই নৃশংসতার একমাত্র বিচার ফাঁসি।

মৃতের জেঠু জানিয়েছেন, “আমরা চাই খুনির যেন ফাঁসির সাজা হয়। শুধু গলা কেটেই ক্ষান্ত হয়নি, আমার ভাইঝির উপর আরও অনেক অত্যাচার করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।”

বসিরহাট জেলার এক পুলিশ কর্তা জানান, যেহেতু ঘটনাটি মুম্বাইয়ে ঘটেছে, তাই সেখানেই বিচার প্রক্রিয়া চলবে। মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা চাওয়া হলে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। রবিবার কফিনবন্দি হয়ে কিশোরীর দেহ মুম্বাই থেকে বসিরহাটের গ্রামের বাড়িতে ফেরার কথা। শোকার্ত আত্মীয়-স্বজনের ভিড় জমতে শুরু করেছে গ্রামের বাড়িতে।