পৃথিবীর মতো চাঁদেও কম্পন, ধসে যাচ্ছে মাটি! চন্দ্রকম্পনের খবরে চিন্তায় বিজ্ঞানীরা

পৃথিবীতে যেমন ভূমিকম্প হয়, এবার চাঁদের মাটিতেও তেমন ‘চন্দ্রকম্পন’ হচ্ছে। সম্প্রতি চীনের বিজ্ঞানীরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন। তারা জানিয়েছেন, পৃথিবীর উপগ্রহের বুকেও প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটছে এবং বিভিন্ন জায়গায় ধস নামছে। মহাকাশ অভিযানের জন্য এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

চিনের সান ইয়াত-সেন ইউনিভার্সিটি (Sun Yat-sen University), ফুঝৌ ইউনিভার্সিটি (Fuzhou University) এবং সাংহাই নরমাল ইউনিভার্সিটি (Shanghai Normal University) দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণাপত্রে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিল চাইনিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস (Chinese Academy of Sciences)।

ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্য
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, চাঁদের মাটিতে গবেষণাকেন্দ্র এবং মহাকাশ আউটপোস্ট গড়ার কাজ চলছে। এই অবস্থায় চন্দ্রপৃষ্ঠে কম্পনের স্থান চিহ্নিত করা গেলে, ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ স্থান বাছাই করা সহজ হবে বলে মনে করছেন চিনের বিজ্ঞানীরা।

তারা জানিয়েছেন, ২০০৯ সাল থেকে চাঁদের বুকে ৪১টি নতুন ধস শনাক্ত করা গেছে। চাঁদের ৭৪টি জায়গার আগের ও পরের ছবি মিলিয়ে দেখে তারা এই সিদ্ধান্তে এসেছেন। তাদের মতে, ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রেই নতুন কোনো বিপর্যয়ের কারণে ধস নেমেছে, যা চন্দ্রকম্পনের ফলেই হয়েছে।

চাঁদের অন্তঃস্থল কি এখনো সক্রিয়?
চাঁদের মাটিতে চন্দ্রকম্পনের কারণ এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তবে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, চাঁদের অন্তঃস্থল এখনো সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। তাদের মতে, চন্দ্রকম্পনের ফলে মহাকাশ গবেষণার ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না, তবে চাঁদের ঢালু জায়গাগুলোতে গবেষণাকেন্দ্র গড়ায় ঝুঁকি রয়েছে।

সান ইয়াত-সেন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শিয়াও ঝিয়ং জানান, চন্দ্রকম্পনের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ধসের তীব্রতাও তুলনামূলকভাবে কম।

আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-ও একসময় জানিয়েছিল যে, অ্যাপোলো অভিযানের সময় মহাকাশচারীরা চাঁদের মাটিতে যে সিসমোমিটার বসিয়ে আসেন, তাতে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত হাজার হাজার কম্পন ধরা পড়ে।

২০২৯ সালে ফের চাঁদে সিসমোমিটার বসাবে চিন
চিনের ‘চ্যাং-৮’ (Chang’e-8) অভিযানে আবারও চাঁদের বুকে সিসমোমিটার বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৯ সালে এই অভিযান চালাবে চিন। বিজ্ঞানীদের মতে, এই সিসমোমিটারের সাহায্যে কম্পনের উৎসস্থল শনাক্ত করা গেলে, সেখানে চন্দ্রযান পাঠিয়ে ধসের ছবি তোলা যেতে পারে।