‘মুখ্যমন্ত্রী পুজো নয়, মণ্ডপ উদ্বোধন করেছেন’, বিরোধীদের পাল্টা জবাব কুণাল ঘোষের!

মহালয়ার আগের দিন, অর্থাৎ শনিবার থেকেই রাজ্যের একাধিক নামী দুর্গাপূজা মণ্ডপের উদ্বোধন শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পিতৃপক্ষে এই উদ্বোধনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজনীতি এখন উত্তাল। বিরোধী দলগুলি, বিশেষ করে বিজেপি, মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ‘হিন্দুধর্মের ভাবাবেগে আঘাত’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

বিজেপির এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী পুজো নয়, মণ্ডপ এবং উৎসবের উদ্বোধন করেছেন। পুজো উদ্বোধন করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। একমাত্র ষষ্ঠীর দিন বোধনের মাধ্যমেই দুর্গাপূজার উদ্বোধন হয়।”

এত আগে কেন মণ্ডপ উদ্বোধন শুরু হয়েছে, সেই প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা দেন কুণাল ঘোষ। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বছর প্রায় ৩,০০০ পুজো উদ্বোধনের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এর মধ্যে কিছু তিনি নিজে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করবেন এবং বাকিগুলো ভার্চুয়ালি করবেন। তাই এই বিশাল সংখ্যক আমন্ত্রণ রক্ষা করতে তাঁকে আগে থেকেই সময় বের করে নিতে হয়েছে।

কুণালের কথায়, এর সঙ্গে হিন্দু ধর্ম বা শাস্ত্রের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে পঞ্জিকা মেনেই আগেই পূজা শুরু হয়ে গেছে, যেমন পুরুলিয়ার গড়পঞ্চকোট।

কুণাল ঘোষ সরাসরি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-কে আক্রমণ করে বলেন, “বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে যখন মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচারিত হয়, তখন কিন্তু পিতৃপক্ষই চলে। মানুষ গঙ্গার ঘাটে তর্পণ করেন! আমাদেরকে হিন্দু ধর্ম শেখাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী! আমরা আপনাকে হিন্দু ধর্ম শিখিয়ে দেব!”

উল্লেখ্য, শনিবার মুখ্যমন্ত্রী কলকাতার শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব, টালা প্রত্যয় এবং হাতিবাগান সার্বজনীন মণ্ডপ উদ্বোধন করেন। শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এক্সে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক স্বার্থে হিন্দুদের রীতি-নীতিতে আঘাত করছেন। তাঁদের মতে, পিতৃপক্ষ পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তর্পণের জন্য উৎসর্গীকৃত, এই সময়ে কোনো উৎসব বা শুভ কাজের সূচনা করা উচিত নয়।