ব্যাংকের গ্রাহক সেবাকেন্দ্র খুলে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা! দত্তপুকুরে চাঞ্চল্য, গ্রেফতার অভিযুক্ত

উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের গ্রাহক সেবাকেন্দ্র খুলে কোটি-কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে মহম্মদ মহিম আলি নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে। শনিবার প্রতারিত গ্রাহকদের একাংশ অভিযুক্তের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং তাদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহিম আলি দত্তপুকুরের পালপাকুড়িয়া গ্রামে একটি ভাড়া বাড়িতে ব্যাংকের গ্রাহক সেবাকেন্দ্র খুলেছিলেন। এই এলাকার বেশিরভাগ মানুষই নিম্নবিত্ত, যারা নিজেদের জমানো টাকা ওই কেন্দ্রে জমা রাখতেন। অভিযোগ, এই গরিব মানুষের ভরসার সুযোগ নিয়ে মহিম প্রায় তিন থেকে চার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। শুধু তাই নয়, গ্রাহকদের অজান্তেই তাদের নামে ভুয়ো লোন তুলে সেই টাকাও তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতারণার নেপথ্যে প্রভাবশালী যোগ?
প্রতারিত গ্রাহকদের অভিযোগ, এই বিশাল অঙ্কের প্রতারণার পেছনে ব্যাংকের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির হাত থাকতে পারে। আমিনা বিবি নামে এক প্রতারিত গ্রাহক বলেন, “আমার অজান্তেই অ্যাকাউন্ট থেকে দু’দফায় ৩০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। আমার সন্দেহ, মহিমের পরিবারের পাশাপাশি ব্যাংকের লোকজনও এর সঙ্গে জড়িত। আমরা চাই আমাদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”

পুলিশে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর জনরোষ থেকে বাঁচতে মহিম আলি দ্রুত দত্তপুকুর থানায় আত্মসমর্পণ করেন, এবং সেখানেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রাহক সেবাকেন্দ্রে তল্লাশি চালিয়ে কম্পিউটার এবং অন্যান্য নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে। বারাসত জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস জানিয়েছেন, এই ঘটনার পেছনে আর কারও যোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ব্যাংকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।