আত্মনির্ভরতা কেবল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, এটি দেশের মর্যাদা: প্রধানমন্ত্রী

শনিবার গুজরাটের ভাবনগরে একটি বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করলেন যে, আজকের বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভারতের কোনো আন্তর্জাতিক শত্রু নেই, তবে দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো বিদেশি দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা। তাঁর বক্তব্যে বারবার ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর স্বপ্নই উঠে আসে।
মোদী বলেন, “যদি কোনো শত্রু থাকে, সেটা হল বিদেশি নির্ভরতা।” তিনি এই নির্ভরতাকে ভারতের সবচেয়ে বড় শত্রু বলে অভিহিত করেন এবং বলেন যে, এই শত্রুকে সবাই মিলে পরাজিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আত্মনির্ভরতাকে শুধু একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, বরং দেশের মর্যাদা, আত্মসম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত বলে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, “১৪০ কোটির ভবিষ্যৎ আমরা অন্য দেশের হাতে ছেড়ে দিতে পারি না।” শত সমস্যার একমাত্র সমাধান হলো আত্মনির্ভর হওয়া।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় অতীতের কংগ্রেস সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, স্বাধীনতার পর কংগ্রেস সরকার দেশের শিল্প ও বাণিজ্যকে অবহেলা করেছে। তিনি বলেন, “দশকের পর দশক ধরে দেশকে লাইসেন্স-কোটা রাজের জালে ফাঁসিয়ে রাখা হয়েছিল,” যার ফলে ভারত বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই নীতির ফলস্বরূপ ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে এবং যুবকদের ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মোদীর মতে, ভারতের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, নীতির ভুলের কারণে সেই শক্তিকে কাজে লাগানো যায়নি।
এই জনসভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী ৩৪,২০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে সমুদ্রবন্দর, জ্বালানি খাত, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পরিবহন ও নগরোন্নয়ন। তিনি দাবি করেন যে, এই প্রকল্পগুলো গুজরাটকে আরও উন্নত করবে এবং ভারতের উন্নয়নের একটি নতুন মডেল তৈরি করবে। মোদী দেশবাসীকে আত্মনির্ভর ভারতের অভিযানে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গুজরাট সবসময় আত্মনির্ভরতার উদাহরণ দিয়েছে। এবার গোটা দেশকে সেই পথে হাঁটতে হবে।”