সন্তানের অধিকার নিয়ে আইনি লড়াই, শেষে প্রকাশ্যে ধ্বস্তাধস্তি, সরগরম কাটোয়া আদালত

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া মহকুমা আদালত চত্বরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্বামী-স্ত্রীর আইনি লড়াইয়ের মাঝে এবার প্রকাশ্যে মারামারি এবং ধ্বস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়লেন তারা, যার কেন্দ্রে ছিল তাদের ৭ বছর বয়সী সন্তান। অভিযোগ, শিশুটির মা তাকে বাবার হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় লাগান, যা দেখে শিশুটির বাবাও তাকে তাড়া করেন এবং শুরু হয় ধস্তাধস্তি।

২০১৫ সালে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের বাসিন্দা এক যুবতীর সঙ্গে মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার এক যুবকের বিয়ে হয়। তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। কিন্তু বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। স্বামী একজন পরিযায়ী শ্রমিক। এই বছরের জুন মাসে স্ত্রী কাটোয়া মহকুমা শাসকের কাছে স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী সন্দেহবাতিকগ্রস্ত এবং তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে, তিনি তার সন্তানকে জোর করে নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।

এদিন শুনানির জন্য শিশুটিকে নিয়ে তার বাবা আদালতে হাজির হন। ছেলের মাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আদালত চত্বরে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হঠাৎই মা তার সন্তানকে বাবার হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় শুরু করেন। বাবাও তাকে ধরার চেষ্টা করলে উভয়ের মধ্যে ধ্বস্তাধস্তি এবং হাতাহাতি শুরু হয়। পরে এই ঘটনায় আশেপাশের লোকজন এবং আইনজীবীরা ছুটে আসেন। এরপর ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী অন্য কারও মাধ্যমে ছেলেকে নিয়ে চলে গেছেন।

ছেলের মা সাংবাদিকদের বলেন, “বাচ্চা কার কাছে থাকবে, তা নিয়ে মামলা চলছে। ছেলে আমার কাছেই থাকবে। জোর করে আমার স্বামী রেখে দিয়েছে।” অন্যদিকে, তার স্বামী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “স্ত্রী অশান্তি করে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। আমার নামে সব মিথ্যা অভিযোগ করছে।” এই পরিস্থিতিতে মা এবং বাবা উভয়ই আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

কাটোয়ার মহকুমাশাসক অহিংসা জৈন জানিয়েছেন, আদালতের ভিতরের বিষয়টি ম্যাজিস্ট্রেট দেখবেন, তবে বাইরের ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং খোঁজ নিচ্ছেন। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, পারিবারিক বিবাদ কখনও কখনও আদালতের বাইরেও কতটা জটিল আকার ধারণ করতে পারে।