তিরুবনন্তপুরমে বিজেপি কাউন্সিলরের রহস্য মৃত্যু, দলের বিরুদ্ধে সুইসাইড নোটের গুঞ্জন, তদন্তে পুলিশ

কেরালার তিরুবনন্তপুরমের থিরুমালা ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর কে. অনিল কুমার শনিবার সকালে তাঁর অফিস কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে এটিকে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তবে ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে পুলিশ একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
কে. অনিল কুমার শুধু একজন জনপ্রতিনিধি ছিলেন না, তিনি ভলিয়াসালা ফার্ম সোসাইটির সভাপতিও ছিলেন। এই সোসাইটি প্রায় ছয় কোটি টাকারও বেশি ঋণ বিতরণ করেছিল, যা নিয়ে সম্প্রতি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অনেক বিনিয়োগকারী তাঁদের টাকা ফেরত চেয়ে চাপ দিচ্ছিলেন। এই আর্থিক বিতর্কের কারণে অনিল কুমারের বিরুদ্ধে থানায় মামলাও হয়েছিল এবং তাঁকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফার্ম সোসাইটির আর্থিক জটিলতা এবং বিভিন্ন মহলের চাপ তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। অনুমান করা হচ্ছে, এই চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সুইসাইড নোট ও বিজেপির প্রতিক্রিয়া
কিছু সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে, যেখানে দলীয় নেতৃত্বকে কটাক্ষ করা হয়েছে। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নোটের অস্তিত্বের বিষয়ে কিছু জানায়নি।
ত্রিবান্দ্রামের বিজেপি জেলা সভাপতি ভি.ভি. রাজেশ জানান, ফার্ম সোসাইটির ঋণগ্রহীতারা ঋণ শোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আর্থিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, “অনিল কুমার সেই চাপ সহ্য করতে পারেননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক চাপে ছিলেন।” তবে তিনি সম্ভাব্য সুইসাইড নোটে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
একজন সক্রিয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত অনিল কুমারের আকস্মিক মৃত্যু এলাকায় গভীর চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মহলেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা, তা জানতে পুলিশি তদন্ত চলছে। বর্তমানে অনিল কুমারের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সম্পূর্ণ তদন্তের পরই এই রহস্যের সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।