চুক্তি ভাঙলে ছাড় নেই! বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তেহরানের শীর্ষ নেতা

ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চ থেকে আমেরিকার বিরুদ্ধে সরাসরি হুংকার ছাড়ল ইরান। মার্কিন প্রশাসনকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় চুক্তি মেনে চলার বার্তা দিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান কূটনীতি এবং পারস্পরিক আলোচনায় বিশ্বাসী হলেও অতীতের কোনো চুক্তির লঙ্ঘন তারা আর বরদাস্ত করবে না।

চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো শীর্ষ নেতৃত্ব। এই মঞ্চে আমেরিকার ভূমিকার সমালোচনা করে আরাগচি বলেন, ওয়াশিংটনের আগ্রাসী নীতি রুখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও বেশি করে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। আমেরিকার সঙ্গে হওয়া চুক্তি প্রসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট দাবি, একটি বৈধ স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উচিত সম্পাদিত চুক্তি ও তার শর্তগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। আমেরিকা যদি নিজে দায়িত্বশীল আচরণ করে এবং চুক্তি মেনে কাজ শুরু করে, তবেই ইরানও নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর থাকবে।

পাশাপাশি, ব্রিকস সম্মেলনের সাইডলাইনে মার্কিন ডলারের আধিপত্য ভাঙতে এক ঐতিহাসিক আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন মুদ্রার বদলে স্থানীয় ও জাতীয় মুদ্রা ব্যবহারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন বিশ্বনেতারা। বিশেষ করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে এই অর্থনৈতিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ডলারের বিকল্প খোঁজার এই উদ্যোগ বিশ্ব অর্থনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ভারতের এই কূনৈতিক পদক্ষেপ এবং বৈশ্বিক মঞ্চে ইরানের অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।