বিহারে ‘ভোট চুরি’ ইস্যু নিয়ে রাহুলের একক প্রচার, মহাজোটে বাড়ছে অস্বস্তি

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার এখন তুঙ্গে, আর কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী তার আক্রমণের মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ। তিনি বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়াকে “প্রাতিষ্ঠানিক ভোট চুরির ব্যবস্থা” বলে বর্ণনা করছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই একটিমাত্র ইস্যুর উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে রাহুল কি একটি বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি নিচ্ছেন?

রাহুল গান্ধী বিহারের বেকারত্ব, দুর্নীতি, বা ভঙ্গুর পরিষেবা ব্যবস্থার মতো প্রধান সমস্যাগুলো এড়িয়ে গিয়ে তার সব মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছেন **’ভোট চুরি’**র ওপর। সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে দাবি করেন যে তার কাছে ‘হাইড্রোজেন বোমা’-র মতো প্রমাণ আছে, যা তিনি পরে প্রকাশ করবেন।

তবে এই একরৈখিক প্রচারে মহাগঠবন্ধন জোটে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। আরজেডি-র এক অংশের মতে, এই ধরনের অভিযোগ ভারতীয় গণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং তাতে উল্টো ফল হতে পারে। যখন তেজস্বী যাদব বেকারত্ব, অপরাধ, এবং প্রশ্ন ফাঁসের মতো বিষয়গুলোতে জোর দিচ্ছেন, তখন রাহুল শুধু SIR-কেন্দ্রিক অভিযোগেই আটকে রয়েছেন, অথচ নির্বাচন কমিশনে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করেননি।

সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২১% বিহারী ভোটার SIR-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, ৩২% ভোটার বেকারত্বকে সবচেয়ে বড় সমস্যা মনে করছেন। এটি স্পষ্ট যে, রাহুল গান্ধীর বার্তা জনগণের মনোভাবের সঙ্গে খুব একটা মিলছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত ‘ভোট চুরি’ নির্ভর প্রচার মহাগঠবন্ধনের ভোট পাওয়ার সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিতে পারে, পাশাপাশি এটি ভারতীয় গণতন্ত্রের সুনামকেও খর্ব করতে পারে। রাহুল তার ১৬ দিনের পদযাত্রা “ভোটাধিকার যাত্রা”-য় এই অভিযোগ আরও জোরালো করেছেন, কিন্তু এই কৌশল কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।