কাশফুলের সাদা হাসি যেন তাদের জীবনের রঙ! পুজোয় কেন তারা হয়ে ওঠেন জীবন্ত দুর্গা?

শরৎ এলেই পুরুলিয়ার জঙ্গল-ঘেরা গ্রামগুলিতে যখন কাশফুল শুভ্র হাসিতে মা দুর্গার আগমন বার্তা দেয়, তখন সেই গ্রামের নারীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন এক ভিন্ন সংগ্রামে। তারা জঙ্গল ও মাঠ থেকে কাশফুল এবং বিশেষ ধরনের ঘাস সংগ্রহ করে তা দিয়ে ঝাঁটা তৈরি করেন। এই ঝাঁটাই হয়ে ওঠে তাদের সংসার চালানোর মূল ভরসা। জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে বুকে ধারণ করে তারা যেন হয়ে ওঠেন একেকজন জীবন্ত দুর্গা।

সংগ্রামের পথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ
এই সংগ্রামের পথ মোটেও সহজ নয়। ঘন জঙ্গলে লুকিয়ে থাকে বিষধর সাপ, অসংখ্য পোকামাকড়। আছে চড়াই-উতরাই পথের ক্লান্তি। তবু তারা থেমে যান না। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায়, সন্তানদের স্বনির্ভর করার দৃঢ়তায় তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন। তাদের এই ঘামঝরা পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে পরিবারের বেঁচে থাকার ভিত।

জানকী বাস্কে নামে একজন নারী জানান, “এই কাজে পরিশ্রম আছে, কিন্তু রোজগারও হয়। আর বিক্রি না হলে তো ঘরের কাজেই লাগাই।” তাদের এই নিষ্ঠা, সাহস ও পরিশ্রম দেখলে মনে হয়, তারাই তো সত্যিকারের দুর্গা, যারা নিজের জীবনের ভয়কে জয় করে এগিয়ে চলেছেন কর্মপথে।

তাদের জীবন যেন কাশফুলের মতোই পবিত্র ও সৌন্দর্যময়। তাই যখন দুর্গাপূজোয় চারদিকে ‘জয় মা দুর্গা’ ধ্বনি ওঠে, তখন সেই গর্জনের মধ্যেই যেন শোনা যায় এই সংগ্রামী নারীদের নিঃশব্দ বিজয়গান।