নদী গ্রাস করেছে স্কুল, বন্ধ পাঠশালা; জলবন্দি স্বরূপনগরের গ্রাম, প্রতিশ্রুতি দিয়েও উদাসীন প্রশাসন!

প্রকৃতির রোষ আর প্রশাসনের উদাসীনতায় আজ জলবন্দি স্বরূপনগর ব্লকের চারঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের পাতুয়া গ্রাম। টানা বৃষ্টি এবং নদীগুলির জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় গোটা গ্রাম প্লাবিত। এর সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে লস্করপোতা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, যা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ জলের তলায় ডুবে আছে। ফলে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ছোট ছোট পড়ুয়াদের পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কেন এই ভয়াবহ পরিস্থিতি?
স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মা, যমুনা এবং ইছামতি নদীর জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। গ্রামের রাস্তাগুলোও জলের নিচে চলে যাওয়ায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, যা পথচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। গ্রামবাসীরা জানান, একাধিক সরকারি দফতর এবং গ্রাম পঞ্চায়েতে জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। এক মাস আগে স্বয়ং বিডিও পরিদর্শনে এসে নদী ও নালার সংস্কারের আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো কাজ শুরু হয়নি।

অভিভাবকদের ক্ষোভ ও দাবি
স্কুলের ভেতরে পোকামাকড় বাসা বেঁধেছে এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা বাধ্য হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে অভিভাবকরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। অবিলম্বে রাস্তা ও স্কুল মেরামত করা না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যাবে।”

গ্রামবাসীদের একটাই দাবি, দ্রুত জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি করে রাস্তা ও স্কুলের সংস্কার করা হোক। অন্যথায়, তাদের জীবনযুদ্ধ আরও জটিল হয়ে উঠবে।