বাংলার ভোটে জিততে মরিয়া বিজেপি? তুরুপের তাস আরএসএস, কেন একশো বছর পূর্তিই প্রধান লক্ষ্য?

বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের পর এবার বাংলাই বিজেপির মূল লক্ষ্য। রাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য এবার কোনো খামতি রাখতে চাইছে না বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। গত এক দশকে তিন জন রাজ্য সভাপতি এলেও সাফল্য অধরা থেকে গিয়েছে। তাই এবার সেই ধারা ভেঙে জয়ের রাস্তায় ফিরতে মরিয়া বিজেপি বুধবার রাত থেকে বিধাননগরের একটি পাঁচতারা হোটেলে ম্যারাথন বৈঠক শুরু করেছে। এই বৈঠকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত রয়েছেন, যা রাজনৈতিক মহলে বাড়তি কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
আরএসএস-বিজেপি সমন্বয়, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বুধবার রাত থেকে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্ব। এই বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, শমীক ভট্টাচার্য, অমিত মালব্য, অমিতাভ চক্রবর্তী-সহ একাধিক বিধায়ক ও সাংসদ উপস্থিত রয়েছেন। বিশেষত, এই বৈঠকে আরএসএস-এর জলধর মাহাতো, শচীন্দ্র নাথ সিনহা, রমাপদ পাল-সহ অন্যান্য শাখার নেতৃত্বদের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এত বছরের নির্বাচনী খরা কাটাতে আরএসএস-এর সঙ্গে সমন্বয় করে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোই বিজেপির মূল উদ্দেশ্য। আগামী বিজয়া দশমীর দিন সংঘের একশো বছর পূর্ণ হচ্ছে। এ উপলক্ষে আরএসএস-এর একাধিক কর্মসূচি নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে। এর আগে হাওড়ার উলুবেড়িয়াতেও আরএসএস ও বিজেপির সমন্বয় বৈঠক হয়েছিল।
রাজ্য কমিটি ও সিএএ নিয়ে আলোচনা
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রাজ্য কমিটি গঠন। রাজ্য সভাপতির নির্বাচন হয়ে গেলেও এখনও কমিটি গঠন নিয়ে দোটানায় রয়েছে দল। দলের অন্তর্কলহ মিটিয়ে দ্রুত একটি কার্যকর কমিটি গঠন করা এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এছাড়াও, এসআইআর (Special Intensive Revision) এবং সিএএ (Citizenship Amendment Act) নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা চলছে। এসআইআর কার্যকর হওয়ার আগে ও পরে রাজ্যে বিজেপির কী ভূমিকা হবে, সেই বিষয়ে বি এল সন্তোষের সঙ্গে বিস্তারে আলোচনা করছেন নেতারা। এই সমন্বয় বৈঠক আগামী নির্বাচনের রূপরেখা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।