বিবাহিতা প্রেমিকার সঙ্গে লুকিয়ে দেখা, ভোরে টোটো করে বাড়ি ফিরছিল যুবক..! তারপর যা হলো? ঘটনা জানলে শিউরে উঠবেন

ভাড়া নিয়ে বিবাদের জেরে জলপাইগুড়িতে এক টোটো চালককে খুনের ঘটনার ১৮ দিন পর মূল অভিযুক্তকে হাওড়ার সাঁকরাইল থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। মৃতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই এই খুনের রহস্যের কিনারা হয়েছে। এই ঘটনায় মৃত টোটো চালকের পরিবার ও তার সহকর্মীরা হতবাক।
গত ২৯ আগস্ট জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি খাল থেকে ৫০ বছর বয়সী টোটো চালক সিতুল রায়-এর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ২৭ আগস্ট ভোর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করে জানতে পারে, সিতুলের টোটো রিক্সা ও মোবাইল ফোন চুরি গেছে।
তদন্তে নেমে জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানার পুলিশ নিখোঁজ টোটো চালকের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে খোঁজ শুরু করে। মোবাইল অন হতেই তার লোকেশন হাওড়ার সাঁকরাইল বলে চিহ্নিত হয়। সেখান থেকেই পুলিশ মূল অভিযুক্ত জ্যোতির্ময় রায় এবং তার বিবাহিতা প্রেমিকা রত্না রায়কে গ্রেফতার করে।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, খুনের মূল কারণ ছিল ভাড়া নিয়ে বিবাদ। কোচবিহারের চিলকির হাটের বাসিন্দা জ্যোতির্ময় রায় জলপাইগুড়ির পাঁচ নম্বর ঘুমটির বাসিন্দা তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রেমিকা রত্নার সঙ্গে দেখা করতে আসে। ২৭ আগস্ট ভোরে জ্যোতির্ময় টোটো চালক সিতুলের টোটোয় ওঠে। কিন্তু তার কাছে ভাড়া দেওয়ার টাকা ছিল না। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। এরপরই জ্যোতির্ময় সিতুলের মাথায় আঘাত করে তাকে অচেতন করে এবং দেহটি খালে ফেলে দেয়। এরপর সে সিতুলের টোটো নিয়ে পালিয়ে যায়।
ধরা পড়ার ভয়ে সে টোটোটি কোচবিহারে ফেলে দেয় এবং প্রেমিকাকে নিয়ে হাওড়ার সাঁকরাইলে পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দেয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। টোটো চালকের মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে জলপাইগুড়ি নিয়ে আসে।