পর্যটকদের সঙ্গে পশুর মতো ব্যবহার! জর্জিয়ার সীমান্তে কেন আটকে রাখা হলো ৫৬ জন ভারতীয়কে?

সম্প্রতি জর্জিয়া সীমান্তে ৫৬ জন ভারতীয় পর্যটকের সঙ্গে অমানবিক ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। আর্মেনিয়া থেকে জর্জিয়ায় প্রবেশের সময় সাদাখলো সীমান্তে প্রচণ্ড ঠান্ডা এবং চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাদের ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়। কোনো শৌচাগার বা খাবার দেওয়া হয়নি, এবং তাদের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ধ্রুবী প্যাটেল নামে এক পর্যটক। তিনি জানান, কর্মকর্তারা এই ‘অত্যাচারের’ ভিডিও তুললেও পর্যটকদের ভিডিও করতে বাধা দেওয়া হয়।

ভিসা নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ!

ধ্রুবী প্যাটেলের পোস্ট অনুযায়ী, সীমান্তের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা পর্যটকদের নথি ভালোভাবে পরীক্ষা না করেই তাদের ভিসা ভুল বলে দাবি করেন। এই আচরণকে তিনি “লজ্জাজনক এবং অগ্রহণযোগ্য” বলে উল্লেখ করেছেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন।

আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে?

এই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং অনেকেই নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটি প্রথম নয়, আমি এর আগেও অনেকের পোস্টে এমন অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “ভারতীয়দের সঙ্গে বারবার এমন আচরণ সত্ত্বেও আমরা কেন জর্জিয়া যাই?”

বিদেশ ভ্রমণে আটকে গেলে কী করবেন?

ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে পড়লে কী করণীয়, সে বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ নিচে দেওয়া হলো:

শান্ত ও সচেতন থাকুন: এমন পরিস্থিতিতে ঘাবড়ে না গিয়ে শান্তভাবে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলুন। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, আপনার দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার অধিকার আপনার আছে।

দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ: জরুরি পরিস্থিতিতে দূতাবাসের হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন। ভ্রমণের আগে এই নম্বরটি সংগ্রহ করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

কিছুতে সই করার আগে সতর্ক হোন: ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা স্থানীয় ভাষায় কোনো নথিতে সই করতে জোরাজুরি করলে সম্পূর্ণ না বুঝে কিছুতেই সই করবেন না।

ঘটনার বিবরণ লিপিবদ্ধ করুন: যারা আপনার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন, তাদের নাম, স্থান ও সময়ের মতো তথ্য লিখে রাখুন। দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য এই নথিগুলি কাজে লাগতে পারে।