মোদী কোটিপতি হলেন কীভাবে? কোথায় কীভাবে কত টাকা বিনিয়োগ করে সম্পদ বাড়ালেন, জানলে চমকে যাবেন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুধু ভারতের নেতৃত্বই দেন না, তিনি দেশের কোটি কোটি মানুষের মতোই আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও রক্ষণশীল পদ্ধতি অনুসরণ করেন। তাঁর সাম্প্রতিক ঘোষিত সম্পদের বিবরণী থেকে জানা যায়, তিনি শেয়ার বাজার, মিউচুয়াল ফান্ড বা বন্ডে এক টাকাও বিনিয়োগ করেননি। বরং দেশের সাধারণ মধ্যবিত্তদের মতোই ব্যাংক ফিক্সড ডিপোজিট (FD) এবং জাতীয় সঞ্চয় শংসাপত্র (NSC)-এর মতো নিরাপদ বিকল্পে তাঁর আয়ের সিংহভাগ সঞ্চয় করেছেন। ৩১ মার্চ ২০২৫-এর হিসেব অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা, যা গত এক বছরে প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকা বেড়েছে।

কোথায় কতটা বিনিয়োগ?

ফিক্সড ডিপোজিট (FD): প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হলো ফিক্সড ডিপোজিট। গুজরাটের গান্ধীনগরে অবস্থিত এসবিআই শাখায় তাঁর ৩ কোটি ২৬ লক্ষ ৩৪ হাজার ২৫৮ টাকার একটি ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে।

জাতীয় সঞ্চয় শংসাপত্র (NSC): প্রধানমন্ত্রী NSC-তেও ৯ লক্ষ ৭৪ হাজার ৯৬৪ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এটি একটি পোস্ট অফিস স্কিম, যেখানে ৭.৭% হারে সুদ পাওয়া যায় এবং ৫ বছরের মেয়াদ থাকে। এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে আয়কর আইনের ৮০C ধারায় কর ছাড়ও পাওয়া যায়।

অন্যান্য সম্পদ: প্রধানমন্ত্রীর হাতে নগদ রয়েছে ৫৯ হাজার ৯২০ টাকা। এছাড়া, তাঁর চারটি সোনার আংটি রয়েছে, যার ওজন ৪৫ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ৩ লক্ষ ১০ হাজার ৩৬৫ টাকা।

শেয়ার-বন্ডে অনীহা: মোদী মিউচুয়াল ফান্ড, বন্ড, ডিবেঞ্চার বা শেয়ারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পে এক টাকাও বিনিয়োগ করেননি।

আয়ের উৎস কী?

হলফনামা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর আয়ের প্রধান উৎস হলো তাঁর সরকারি বেতন এবং তার সঞ্চয়ের উপর অর্জিত সুদ। গত বছরে FD থেকে তাঁর সুদ বাবদ আয় ছিল ২ লক্ষ ২০ হাজার ২১ টাকা।

১১ বছরে সম্পদ দ্বিগুণ

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় মোদীর মোট সম্পদ ছিল ১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা। ২০১৯ সালের মধ্যে তা বেড়ে হয় ২.৫ কোটি টাকা। বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদ ৩ কোটি ৪৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ৫১৭ টাকা। এর অর্থ, গত ১১ বছরে তাঁর সম্পদ দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, ঝুঁকিহীন বিনিয়োগের মাধ্যমেও দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ বৃদ্ধি সম্ভব।