হাইকোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি, ‘আবার ডাকতে চাই না,’ মুখ্যসচিবকে ভর্ৎসনা করে কেন এমন মন্তব্য বিচারপতির?

আদালতের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও নিয়মিত কাজকর্ম পরিচালনার জন্য রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করছে না, এই অভিযোগ তুলে হাইকোর্ট থেকে শুরু করে জেলার নিম্ন আদালতগুলো চরম অর্থ সংকটে ভুগছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে সাত দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিতে হয়েছিল। কিন্তু বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের শুনানিতে ফের তীব্র ভর্ৎসনার শিকার হলেন মুখ্যসচিব। বিচারপতি দেবাংশু বসাকের কড়া মন্তব্য, “এমনভাবে কাজ করুন, যাতে ফের আপনাকে আদালতে ডাকতে না হয়।”

কেন এই পরিস্থিতি?

দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা হাইকোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজ্যের কাছে বিভিন্ন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ চেয়ে ফাইল পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু অন্তত ৫৩টি ফাইল আটকে রয়েছে। গত শুনানিতে বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ এই নিয়ে মুখ্যসচিবের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

মুখ্যসচিবের আশ্বাস, কিন্তু বিচারপতি সন্তুষ্ট নন

আদালতের চাপের মুখে মুখ্যসচিব তার রিপোর্টে জানান, হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতগুলির ১৪টি প্রকল্পের বকেয়া ৫০ কোটি টাকা ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য অর্থ দপ্তরে ফাইল পাঠানো হয়েছে। তবে বিচারপতি বসাক এতে সন্তুষ্ট নন। তিনি একের পর এক প্রশ্নবাণ ছুড়ে দেন মুখ্যসচিবের দিকে:

“৫৩টি ফাইল পড়ে রয়েছে! আপনি কীভাবে সামলাবেন?”

“জেলা বিচারকদের কাছে টাকা না থাকায় প্রশাসনিক কাজে অসুবিধা হচ্ছে। যেখানে ৫ লক্ষ টাকা প্রয়োজন, সেখানে দেওয়া হচ্ছে ২.৫ লক্ষ।”

“জেলা জজদের অফিসের কাগজপত্র কেনারও পয়সা দেওয়া হচ্ছে না।”

“‘পেপারলেস কোর্ট’ করার প্রস্তাব গত ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া হলেও এখনো কেন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি?

“হাইকোর্ট ও জেলা আদালতগুলোতে পর্যাপ্ত কর্মচারী নেই। এ বিষয়ে কী করছেন?”

“কর্মচারীদের পেনশন ও পে-কমিশন নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে?”

হাইকোর্ট প্রশাসনের আইনজীবী সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, আদালতের ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানকারী সংস্থা ওয়েবেলের লক্ষ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিচারপতি নির্দেশ দেন, “অবিলম্বে টাকা দিন, নাহলে তো সংযোগ কেটে দেবে!”

আদালতের কঠোর নির্দেশ

বিচারপতি বসাক মুখ্যসচিবকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “প্রত্যেক জেলা বিচারকের জন্য একটি ‘রানিং ফান্ড’ অবশ্যই রাখতে হবে। পাশাপাশি, অবিলম্বে বকেয়া টাকা এবং প্রতিদিনের কাজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে হবে। অফিসের খরচ, কম্পিউটার কেনা ও মেরামতের খরচকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”

সমস্ত প্রস্তাবে সাত দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যসচিব। সেই কারণে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে। এই দিন মুখ্যসচিবকে আর সশরীরে হাজির হতে হবে না বলে জানিয়েছেন বিচারপতি।