চন্দ্রকোণা গ্রামীণ হাসপাতালে হনুমানের তাণ্ডব, গাড়ি ভাঙচুর করে নাজেহাল নিশ্চয়যান কর্মীরা

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা গ্রামীণ হাসপাতালে একদল হনুমানের তাণ্ডবে রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নিশ্চয়যান পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত গাড়ির মালিক ও চালকেরা। গত পনেরো দিন ধরে এই হনুমানের দলটি হাসপাতালের পার্কিং চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির লুকিং গ্লাস ও অন্যান্য অংশ ভাঙচুর করছে। এর ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন গাড়ির মালিকরা এবং সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্কের পরিবেশ।

গাড়ির মালিক ও চালকদের অভিযোগ, ৫-৬টি হনুমানের একটি দল, যার মধ্যে কয়েকটি বাচ্চাও রয়েছে, নিয়মিতভাবে পার্কিংয়ে থাকা গাড়িগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। তারা লাফিয়ে গাড়ির ওপর উঠে লুকিং গ্লাস ভেঙে দিচ্ছে। যদি কোনো গাড়ির কাঁচ নামানো থাকে, তাহলে তারা তার ভেতরে ঢুকেও জিনিসপত্র নষ্ট করছে।

এক মালিক বলেন, “এই লুকিং গ্লাসগুলোর দাম অনেক। একটা ভাঙলে নতুন করে লাগাতে হচ্ছে, আর পরদিন আবার সেই একই ঘটনা ঘটছে। আমরা এই ক্ষতি সামলাতে পারছি না।” হনুমানগুলো এতটাই বেপরোয়া যে, চালকেরা গাড়ি নিয়ে গেলে তাদের তাড়া করে। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে চালকরা পটকা ফাটিয়ে হনুমান তাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

কেবল নিশ্চয়যান নয়, হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের ব্যক্তিগত গাড়িও হনুমানের তাণ্ডবের শিকার হচ্ছে। গাড়ির ক্ষতির পাশাপাশি, চালকদের মধ্যেও একটা ভয় তৈরি হয়েছে, কারণ গাছতলায় বিশ্রাম নিতে গেলেও তারা নিরাপদ বোধ করছেন না।

ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন হাসপাতালের বিএমওএইচ ড. স্বপ্ননীল মিস্ত্রি। তিনি জানান, “হনুমানের একটি দল ছোট বাচ্চা নিয়ে এখানে উপদ্রব করছে এবং আমাদের নিশ্চয়যানের গাড়ির লুকিং গ্লাস ভেঙে দিয়েছে। আমরা হনুমানদের এখান থেকে সরানোর চেষ্টা করছি, তবে সঙ্গে বাচ্চা থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তারপরও আগের চেয়ে উপদ্রব কিছুটা কমেছে।”

কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও হনুমানদের এমন ধারাবাহিক তাণ্ডবে গাড়ির মালিক ও চালকেরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তারা দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।