কেরলে রহস্যজনক রোগ! মস্তিষ্ক কুড়ে খাওয়া জীবাণুর সংক্রমণে অসুস্থ ৬৭ জন, মৃত্যু বাড়ছে

এক বিরল জলজ জীবাণু, যা মানুষের মস্তিষ্ককে কুড়ে কুড়ে খায়, তার আক্রমণে কেরলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, চলতি বছরেই এই জীবাণুর সংক্রমণে এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬৭ জন অসুস্থ হয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ এই সংক্রমণ ঠেকাতে অবিলম্বে জলবাহিত রোগগুলির ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি তিরুঅনন্তপুরমের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর স্থানীয় একটি সুইমিং পুলে সাঁতার কাটার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওই পুলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং জলের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর আগে কোঝিকোড়ের একজন ৪৯ বছর বয়সী পুরুষ এবং ৯ বছর বয়সী এক বালিকার মৃত্যু হয়েছে এই একই জীবাণুর সংক্রমণে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু থেকে প্রবীণ—সবাই রয়েছেন।
কী এই ‘অ্যামোবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস’?
এই রোগের পোশাকি নাম ‘অ্যামোবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস’ (Amoebic Meningoencephalitis)। এটি একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত প্রাণঘাতী সংক্রমণ। এই ধরনের জীবাণু সাধারণত উষ্ণ, স্থির এবং অপরিষ্কার জলাশয়ে থাকে। নাক দিয়ে জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়, যা শরীরের জটিলতা বাড়াতে থাকে। বিশ্বজুড়ে এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার যথেষ্ট বেশি।
উপসর্গ ও সতর্কবার্তা
এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গগুলো হলো:
জ্বর
মাথাব্যথা
বমি
ঘাড় শক্ত হয়ে আসা
মাথা ঘোরা
কেরল সরকার এই সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কিছু সতর্কতা মেনে চলার কথা বলেছে। অপরিষ্কার পুকুর বা জলাশয়ে স্নান না করা, সুইমিং পুল নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, এবং নিশ্চিত করা যে নাক দিয়ে কোনও অপরিষ্কার জল শরীরে প্রবেশ না করে। এছাড়াও, বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক এবং কুয়ো পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি এই ধরনের কোনও উপসর্গ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, কারণ দ্রুত রোগ নির্ণয় হলে প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।