ইলিশ ছাড়াই রান্নাপুজো? খারাপ আবহাওয়ায় কম জোগান, মহার্ঘ রুপোলি শস্যে মুখ ফিরোচ্ছে বাঙালি

রান্নাপুজোর আবহে ইলিশের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও, জোগানে টান পড়ায় রুপোলি শস্যের দাম এখন আকাশছোঁয়া। ফলে সাধের ইলিশের বদলে এ বছর মায়ানমারের ইলিশ অথবা অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছেন মধ্যবিত্ত বাঙালি।

কেন ইলিশের আকাল?

মৎস্যজীবীদের মতে, এই মরশুমে খারাপ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে ইলিশের দেখা তেমন মেলেনি। সুন্দরবন মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র জানান, মরশুমের শুরুতে কিছু বড় ইলিশ ধরা পড়লেও, পরে তা আর দেখা যায়নি। বারবার নিম্নচাপের ফলে সমুদ্র উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীরা মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে যেতে পারছেন না। ট্রলার মালিক ও মৎস্যজীবীরা তাই বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিপুল দাস নামে এক মৎস্যজীবী বলেন, “একটি ট্রলারের মাছ ধরতে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ হয়, কিন্তু সেই পরিমাণে মাছ আমরা পাচ্ছি না।”

দাম শুনলে চোখ কপালে!

ডায়মন্ডহারবারের নগেন্দ্র বাজার মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী জনয় হালদার জানিয়েছেন, বাজারে ইলিশের চাহিদা থাকলেও জোগান কম থাকায় দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

১ কেজি ওজনের ইলিশ: ১৮০০ থেকে ২৪০০ টাকা প্রতি কেজি।

৬০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ: ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা প্রতি কেজি।

৩০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ: ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা প্রতি কেজি।

ছোট মাপের ইলিশ, যার ওজন ৩০০-৪০০ গ্রাম, তার দামও ৪০০-৫০০ টাকা প্রতি কেজি।

মায়ানমারের ইলিশেও শান্তি নেই

স্থানীয় ইলিশের দাম এত বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা হিমঘরে মজুত করা মায়ানমারের ইলিশের ওপর ভরসা রাখছেন। কিন্তু এই মাছের দামও কম নয়। কেজি প্রতি ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত দাম যাচ্ছে। এতে মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়ছে। ফলে ইলিশের পরিবর্তে ভোলা মাছ (কেজি ২০০-৩০০ টাকা) বা পমফ্রেট (কেজি ৭০০-৮০০ টাকা) কেনার দিকে ঝুঁকছেন অনেকে।

এক মাছ ব্যবসায়ী অমল দাস বলেন, “বাজারে ইলিশের চাহিদা আছে, কিন্তু জোগান নেই। তাই মধ্যবিত্তরা পোনা ও অন্যান্য মাছের ওপর ভরসা করছেন।”

সব মিলিয়ে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে মৎস্যজীবীরা যেমন ক্ষতির মুখে, তেমনই আকাশছোঁয়া দামের কারণে ইলিশপ্রেমী বাঙালিরও কপালে চিন্তার ভাঁজ। দুর্গাপূজোর আগে আবহাওয়া ভালো হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন মৎস্যজীবীরা।