‘হিন্দুধর্মে সমতা নেই, তাই মানুষ ধর্ম বদলায়’, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার মন্তব্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক!

কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এবং বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। তার মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারাও।

সিদ্দারামাইয়ার মন্তব্য

এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেন, “যদি হিন্দুধর্মে সমতা থাকত, তাহলে মানুষ কেন ধর্ম পরিবর্তন করত? অস্পৃশ্যতা কোথা থেকে এল?” তিনি আরও বলেন, অন্য কোনো ধর্মে অসাম্য থাকতে পারে, কিন্তু মানুষ ধর্ম পরিবর্তন করে কারণ তাদের সেই অধিকার আছে। তার এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক।

বিজেপির পাল্টা আক্রমণ

সিদ্দারামাইয়ার মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আর অশোক। তিনি বলেন, “সমতার প্রসঙ্গ উঠলে মুখ্যমন্ত্রী কেন শুধু হিন্দুধর্মকেই নিশানা করেন? মুসলিমদেরকে সমতা নিয়ে প্রশ্ন করার সাহস কি আপনার আছে?” অশোক আরও বলেন যে, হিন্দু ধর্মের জাতিভেদ প্রথা খারাপ হলেও স্বামী বিবেকানন্দ, বি আর আম্বেদকর এবং বাসভন্ন-এর মতো সমাজসংস্কারকরা এই খারাপ দিকগুলোকে মুছে ফেলে ধর্মকে আরও মজবুত করেছেন। তিনি আরও মন্তব্য করেন, “ইসলাম ধর্মের মৌলবাদ এবং জিহাদি মনোভাব নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন করেছে? মুসলিমরা কোনোদিনই পরিবর্তনকে সমর্থন করেনি।”

কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাসভরাজ বোম্মাইও সিদ্দারামাইয়ার মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “সমতা ধর্ম থেকে আসে না, বরং ভালোবাসা, স্নেহ এবং সম্মান থেকে আসে।” তিনি রাজ্যের জাতি-জরিপ উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন, কারণ তার মতে, শুধুমাত্র ভারত সরকারেরই আদমশুমারি করার ক্ষমতা আছে।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা চালবাদী নারায়ণস্বামীও অভিযোগ করেন যে, সিদ্দারামাইয়া ধর্ম এবং জাতির ভিত্তিতে মানুষকে বিভাজন করার চেষ্টা করছেন। সিদ্দারামাইয়ার এই মন্তব্য আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।