পুজোয় মন খারাপের মেঘ দূর! লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাতেই জঙ্গলমহলের গ্রামে দুর্গাপুজো করছেন মহিলারা

যে গ্রামে প্রায় শতাধিক পরিবারের বাস, সেখানেও উৎসবের সময় ঢাকের বাদ্যি শোনা যেত না, আলো জ্বলত না। চারিদিকে পুজোর আমেজ থাকলেও, জঙ্গলমহলের বিনপুর দুই নম্বর ব্লকের আশাকাঁথি গ্রাম দুর্গাপূজার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হত। কিন্তু সেই শূন্যতা দূর করে দিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। এই গ্রামের মহিলারাই এখন নিজেদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায় দুর্গাপূজা করছেন। এই পুজো এখন তৃতীয় বছরে পা দিল।
একটা সময় ছিল যখন গ্রামের মহিলারা সংসারের সব কাজ সামলে অঞ্জলি দিতে বা পুজো দেখতে বাইরে যেতে পারতেন না। এই কষ্ট থেকেই কয়েকজন মহিলার মনে গ্রামে দুর্গাপূজা শুরু করার চিন্তা আসে। কিন্তু খরচ অনেক, যা সবার পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না। তখন গ্রামের সকল মহিলা মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন, তারা নিজেদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা থেকে চাঁদা দিয়ে পুজো শুরু করবেন।
২০২৩ সালে গ্রামের ‘মাতৃশক্তি পুজো কমিটি’ প্রথমবার এই উদ্যোগ নেয় এবং সাফল্য পায়। এ বছর তাদের পুজো তৃতীয় বছরে পা রাখল। শহরের দিকে মহিলারা দুর্গাপূজার আয়োজন করলেও, গ্রামের মহিলাদের এমন উদ্যোগ সচরাচর দেখা যায় না। তাই আশাকাঁথি গ্রামের এই প্রচেষ্টা এক অসাধারণ উদাহরণ তৈরি করেছে।