দেড় লক্ষ টাকায় আইফোন ১৭ প্রো না কিনে অ্যাপলের শেয়ার কিনলে আজ হাতে কত থাকত? জানলে চমকে যাবেন!

নতুন আইফোন কেনার আকর্ষণ কার না থাকে? কিন্তু পছন্দের গ্যাজেটে টাকা খরচ করার পরিবর্তে যদি সেই একই পরিমাণ অর্থ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা হতো, তবে আর্থিক লাভ কত হতো—এমন একটি তুলনা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। আর এই হিসাব দেখলে যে কারও চোখ কপালে উঠতে বাধ্য।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ করে আইফোন ১৭ প্রো কেনার পরিবর্তে যদি সেই টাকা অ্যাপলের শেয়ারে বিনিয়োগ করা হতো, তবে আজ তার ছবিটা সম্পূর্ণ অন্যরকম হতে পারত। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আইফোন ১৭ প্রো লঞ্চের সময় অ্যাপলের প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ২৩৪ মার্কিন ডলার। এক বছর পরে সেই শেয়ারের দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২০ ডলারে। অর্থাৎ, ডলারের নিরিখে এক বছরেই কোম্পানির শেয়ারে প্রায় ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে।
শক্তিশালী ব্যবসা এবং রেকর্ড আয়ই এই শেয়ারের দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে অ্যাপলের আয় ছিল ১৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। পরের ত্রৈমাসিকগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল।
ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে এই লাভ আরও আকর্ষণীয় হওয়ার পেছনে রয়েছে মুদ্রার বিনিময় হরের ভূমিকা। কারণ এই সময়ের মধ্যে মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার পতন ঘটেছে। ফলে শুধু শেয়ারের দাম বাড়াই নয়, মুদ্রার দামের পরিবর্তনের সুফলও পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। সংবাদমাধ্যম ‘মিন্ট’-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যাপলের শেয়ারে দেড় লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে এক বছর পর তার বর্তমান মূল্য দাঁড়াত প্রায় ২.২ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, কর ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলেও কেবল এক বছরেই নিট লাভ হতো প্রায় ৭০,০০০ টাকা। টাকার অঙ্কে এই রিটার্ন প্রায় ৪৭ শতাংশ।
পক্ষান্তরে, ওই দেড় লক্ষ টাকায় আইফোন ১৭ প্রো কিনলে এক বছরে তার বাজারমূল্য তো বাড়তই না, বরং ব্যবহারের ফলে তার পুনর্বিক্রয়মূল্য বা রিসেল ভ্যালু আরও কমে যেত। এক ছাদের তলায় দাঁড়িয়ে থাকা এই দুইয়ের তুলনা স্পষ্ট করে দেয় যে, শখের গ্যাজেটের পেছনে খরচ করার চেয়ে সুচিন্তিত বিনিয়োগ কতটা লাভজনক হতে পারে।