পথের কাঁটা ৫ বছরের মেয়ে, ফুটন্ত জল দিয়ে ঝলসে নদীতে ছুঁড়ে ফেলল মা! কর্ণাটকে শিউরে ওঠা ঘটনা

কর্ণাটকের হাভেরিতে এক নৃশংস ঘটনায় গোটা দেশ স্তব্ধ। বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় এক পাঁচ বছরের শিশুকন্যাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে খুনের অভিযোগ উঠেছে তার নিজের মা ও মায়ের প্রেমিকের বিরুদ্ধে। এরপর শিশুকন্যার দেহ তুঙ্গভদ্রা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ অভিযুক্ত মা জ্যোতি এবং তার প্রেমিক আন্নাপ্পাকে আটক করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই পাশবিক ঘটনাটি ঘটে গত ২ আগস্ট। জ্যোতি ও আন্নাপ্পা মিলে ছোট্ট মেয়েটিকে প্রচণ্ড মারধর করে এবং ফুটন্ত জল তার মুখে ছুঁড়ে মারে। যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকলেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। বরং দগ্ধ অবস্থায় দুদিন ধরে বাড়িতে আটকে রাখা হয়। এরপর নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য তার হাত-পা বেঁধে জীবিত অবস্থাতেই তাকে তুঙ্গভদ্রা নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দেয় তারা।
প্রেমের টানে ফেলেছিল স্বামী-সন্তানকে
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, জ্যোতির মঞ্জুনাথের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের তিন সন্তান ছিল। একটি হোটেলে কাজ করার সময় জ্যোতির পরিচয় হয় আন্নাপ্পার সঙ্গে এবং তাদের মধ্যে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের টানে জ্যোতি তার স্বামী ও দুই সন্তানকে ছেড়ে দিয়ে শুধুমাত্র ছোট মেয়েটিকে নিয়ে আন্নাপ্পার সঙ্গে থাকতে শুরু করে।
তারা গুড্ডাদা আনভেরিতে বসবাস শুরু করে। কিন্তু তাদের অবৈধ সম্পর্কের কথা মেয়েটি প্রতিবেশীদের কাছে বলে দেয়, যার ফলে এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। এর পরই ক্ষোভে উন্মত্ত হয়ে মা ও তার প্রেমিক মিলে শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে।
নদীতে ভেসে উঠল দেহ
গত ৮ আগস্ট নদীর তীরে শিশুটির দেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। শিশুটির বাবা মঞ্জুনাথ স্ত্রী জ্যোতি ও আন্নাপ্পার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই একই ধরনের আরেকটি ঘটনা সম্প্রতি তেলেঙ্গানায় ঘটেছে। সেখানেও এক মা তার বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের পথে বাধা হওয়ায় নিজের দুই বছরের কন্যাসন্তানকে খুন করে দেহ মাটিতে পুঁতে দিয়েছিল। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী তার অপরাধ স্বীকার করে। এই দুটি ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, কীভাবে কিছু মানুষ সম্পর্কের মোহে অন্ধ হয়ে নিজের সন্তানের প্রতিও নির্মম হতে পারে।