ভোটের আগে ট্রাম্পের বাম্পার অফার! আমেরিকার প্রতিটি নাগরিককে ৪ লক্ষ টাকারও বেশি দেওয়ার ঘোষণা!

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার এখন তুঙ্গে। আর ঠিক এই সংকটজনক মুহূর্তে ভোটারদের মন জয় করতে এক বিরাট ও অভাবনীয় আর্থিক ঘোষণা করে বসল ডোনাল্ড ট্রাম্প শিবির। ডালাসে সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের রিপাবলিকান কনভেনশনে একটি শক্তিশালী ভাষণের সময় ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে যদি রিপাবলিকান পার্টি জয়ী হয়, তবে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে সরাসরি ৫০০০ ডলার করে প্রদান করা হবে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় চার লক্ষ টাকারও বেশি। এই মেগা প্রতিশ্রুতির পর থেকেই বিশ্ব রাজনীতি ও মার্কিন অর্থনীতিতে শুরু হয়ে গেছে তীব্র জল্পনা।
ভাষণ দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, তাঁর পূর্ববর্তী ও বর্তমান প্রশাসন উভয়ের আমলেই মার্কিন অর্থনীতি এক অভূতপূর্ব উন্নতির মুখ দেখেছে এবং দেশ প্রচুর মুনাফা অর্জন করছে। তিনি জোরালো কণ্ঠে বলেন যে, এই বিশাল আর্থিক সাফল্যের জোরেই তিনি এমন সাহসী প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সাহস রাখছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস এবং উচ্চকক্ষ সেনেটে যদি রিপাবলিকানরা জয়লাভ করতে পারে, তবে দেশের এই উদীয়মান আর্থিক শক্তির পুরো সুফল সরাসরি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ডিভিডেন্ড হিসেবে বণ্টন করা হবে।
তবে সিএনএন-এর একটি প্রামাণ্য রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে যে, দেশের প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের হাতে এই ৫০০০ ডলার করে তুলে দেওয়ার জন্য এত বিপুল পরিমাণ তহবিল কোথা থেকে আসবে বা এর বিতরণের নির্দিষ্ট রূপরেখা কী হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প সম্পূর্ণ নীরব থেকেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, এর আগেও ট্রাম্প ২০০০ ডলারের ট্যারিফ রিবেট চেক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যার জন্য মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট করেছিলেন যে এহেন পদক্ষেপের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আইন প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে।
বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের জমানায় এটি ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় আর্থিক জনমুখী ঘোষণাগুলির মধ্যে একটি। এর আগে গত জুলাই মাসে তিনি ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ নামক একটি অভিনব প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি আমেরিকান শিশুকে ১০০০ ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সেনাসদস্যদের জন্য ‘ওয়ারিয়র ডিভিডেন্ড’-এর মাধ্যমে ১৪.৫ লক্ষ সেনাকে করমুক্ত ১৭৭৬ ডলার এককালীন বোনাস দেওয়ার মতো পদক্ষেপও অতীতে নেওয়া হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও দলীয় জনপ্রিয়তায় কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে। এর পেছনে রয়েছে গত সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান সংকট, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার খরচ এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, যা সাধারণ আমেরিকানদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে জনসমর্থন পুনরুদ্ধার করতে এবং রাজনৈতিক সমীকরণ নিজের অনুকূলে আনতে ট্রাম্প এই চমকপ্রদ আর্থিক প্রতিশ্রুতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।