১. সম্পত্তির লোভে পিসিকে খুন! ৬ বছর পর যাবজ্জীবন সাজা হল ভাইপোর, সঙ্গীও পেল কড়া শাস্তি

পিসির সম্পত্তি দখলের লোভে তাকে খুন করার দায়ে এক ভাইপোকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনালো মালদা জেলা আদালত। খুনের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য সাহায্যকারী এক সহযোগীকেও সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার মালদা জেলা পঞ্চম দায়রা আদালতের বিচারক মনোদীপ দাশগুপ্ত এই রায় দিয়েছেন।

২০১৯ সালের ১৮ অগাস্ট মালদার হবিবপুর থানার অন্তর্গত গোপালপুরে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছিল। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, সম্পত্তির লোভে ৩৫ বছর বয়সী শিবা হেমব্রম ৬০ বছর বয়সী তার পিসি নীলমণি হেমব্রমকে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করে। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য সে স্থানীয় বর্মা হেমব্রমের সাহায্য নেয়। দুজন মিলে রাতেই একটি খাটের দেহ নিয়ে গিয়ে এলাকার একটি খাড়িতে পুঁতে দেয়।

যেভাবে ফাঁস হলো খুনের রহস্য

ঘটনার পরদিন শিবা নিজেই গ্রামের এক গণ্যমান্য ব্যক্তি প্রেমা চৌধুরীর কাছে সবকিছু স্বীকার করে। সকালে প্রেমার বাড়িতে গিয়ে নীলমণির প্রতিবেশী মোনা মার্ডি এই খবর জানতে পারেন। এরপর গ্রামবাসীরা মিলে শিবাকে আটকে রেখে থানায় খবর দেয়। ২০১৯ সালের ১৯ অগাস্ট মোনা মার্ডি হবিবপুর থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন।

সরকারি আইনজীবী হুমায়ুন মিয়াঁ বলেন, পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ (খুন) এবং ২০১ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৩ নভেম্বর চার্জশিট পেশ করে এবং ১৬ জন সাক্ষীর ভিত্তিতে আদালত শিবা ও বর্মাকে দোষী সাব্যস্ত করে।

আদালতের রায়ে শিবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, প্রমাণ লোপাটের দায়ে শিবা ও বর্মা উভয়কেই সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।