এসি-হিটারের জ্বালায় প্রতি মাসে পকেট খালি হচ্ছে? এই সরকারি প্রকল্পের সাহায্যে একেবারে কমিয়ে ফেলুন বিদ্যুৎ বিল!

ভাদ্র মাসের ভ্যাপসা গরমে পাখা তো বটেই, অনেক বাড়িতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসি চলে। আবার শীতকালে হিটার ব্যবহারের ফলে মাস শেষের বিদ্যুতের বিল হাতে আসতেই অনেকের মাথায় হাত পড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব বাড়িতে এসি বা ভারী ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম বেশি চলে, সেখানে বিদ্যুতের খরচ দ্রুত আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। তবে একটু বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে এবং বাড়ির ছাদকে ব্যবহার করেই এই বিপুল খরচ অনেকটাই কমিয়ে ফেলা সম্ভব। সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে এখন যে কেউ নিজের বাড়িতেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেন। সাধারণ মানুষকে এই কাজে উৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে চালু রয়েছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘পিএম সূর্য ঘর: ফ্রি ইলেকট্রিসিটি যোজনা’ (PM Surya Ghar Muft Bijli Yojana)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ির ছাদে রুফটপ সোলার প্যানেল বসালে সরকার সরাসরি মোটা অংকের ভর্তুকি দিয়ে থাকে।

সোলার প্যানেল কীভাবে কাজ করে?

সোলার প্যানেল মূলত দিনের বেলায় সূর্যের আলো থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। সেই সৌরবিদ্যুৎ বাড়ির আলো, পাখা থেকে শুরু করে ফ্রিজ বা অন্যান্য গৃহস্থালির বৈদ্যুতিন যন্ত্র চালাতে কাজে লাগানো যায়। এর ফলে গ্র বা বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার ওপর নির্ভরতা কমে, যা স্বাভাবিকভাবেই মাসিক বিদ্যুতের বিল অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

শুধু নিজের বাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করাই নয়, ‘নেট মিটারিং’-এর মাধ্যমে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পুনরায় গ্রিডে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এর ফলে বাড়িতে ঠিক কতটুকু বিদ্যুৎ তৈরি হলো এবং কতটা খরচ হলো, তার সঠিক হিসাব রাখা যায়। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিদ্যুতের বিল অনেকটাই কমে যেতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা একেবারে শূন্যের কাছাকাছিও নেমে আসতে পারে। তবে সম্পূর্ণ বিল শূন্য হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ওই বাড়ির দৈনিক বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং সোলার সিস্টেমের উৎপাদন ক্ষমতার ওপর।

কত টাকা পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি পাওয়া যায়?

পিএম সূর্য ঘর যোজনায় সোলার প্যানেলের উৎপাদন ক্ষমতা বা ক্যাপাসিটির ওপর ভিত্তি করে ভর্তুকি দেওয়া হয়।

  • ১ কিলোওয়াট: ১ কিলোওয়াটের সোলার সিস্টেম বসালে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি পাওয়া যেতে পারে।

  • ২ কিলোওয়াট: ২ কিলোওয়াটের ক্ষেত্রে এই ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে হয় ৬০ হাজার টাকা।

  • ৩ কিলোওয়াট বা তার বেশি: ৩ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার সিস্টেমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি মিলে থাকে।

এর ফলে সোলার প্যানেল বসানোর মোট প্রাথমিক খরচের একটি বিরাট অংশ ভর্তুকির মাধ্যমে সহজে কমানো সম্ভব। তবে প্যানেলের ধরন, গুণমান, মোট ক্ষমতা এবং ইনস্টলেশন খরচের ওপর সামগ্রিক খরচ কিছুটা নির্ভর করে।

কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন এবং কীভাবে আবেদন করবেন?

এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়: ১. আবেদনকারীর বাড়িতে নিজের নামে একটি বৈধ গ্রিড-কানেক্টেড বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা আবশ্যক। ২. বাড়ির ছাদে পর্যাপ্ত এবং উপযুক্ত খোলা জায়গা থাকতে হবে যেখানে সঠিকভাবে সূর্যালোক পৌঁছায়। ৩. সরকারি নিয়ম মেনে শুধুমাত্র অনুমোদিত ভেন্ডরের মাধ্যমেই সোলার সিস্টেম ইনস্টল করতে হবে। ৪. সিস্টেম বসানোর পর স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার (DISCOM) যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক।

আবেদনের সহজ প্রক্রিয়া:

এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে প্রথমে সরকারি অফিসিয়াল ‘পিএম সূর্য ঘর’ পোর্টালে গিয়ে রুফটপ সোলারের জন্য অনলাইন আবেদন করতে হবে। আবেদন করার সময় নিজের রাজ্য এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা বা ডিসকম (DISCOM) নির্বাচন করতে হবে। এরপর নিজের বিদ্যুৎ সংযোগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

আবেদন অনুমোদিত হলে তালিকাভুক্ত অনুমোদিত ভেন্ডরদের মধ্যে থেকে যেকোনো একজনকে বেছে নিয়ে বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম বসানো যায়। সিস্টেম বসানোর পর বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা এসে পুরো বিষয়টি পরিদর্শন ও যাচাই করেন। সমস্ত নিয়ম ঠিকঠাক থাকলে নেট মিটার বসানোর পর সরকারি ভর্তুকির নির্ধারিত টাকা সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তাই প্রতি মাসের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের বিল নিয়ে যাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ রয়েছে, তাঁদের জন্য বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসানো দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমানোর অন্যতম সেরা পথ হতে পারে।