লাভজনক নারকেল চাষ, কমছে কেন, কৃষকদের জন্য সরকারি ভর্তুকি ও নতুন দিকনির্দেশনা

একসময় বাংলার গ্রামে ঘরে ঘরে নারকেল গাছ দেখা গেলেও এখন সেই দৃশ্য বিরল। এর পেছনে রয়েছে নানা কারণ, যার মধ্যে প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন অন্যতম। এই সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্প্রতি কল্যাণী বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হলো নারকেল দিবস। এই অনুষ্ঠানে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ এবং কৃষি বিশেষজ্ঞরা নারকেল চাষের গুরুত্ব এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন।

নারকেল চাষে কী কী সুবিধা?

বিশেষজ্ঞরা কৃষকদের জানান, নারকেলের প্রতিটি অংশই মূল্যবান এবং এটি শুধু একটি ফল নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বহুমুখী ব্যবহার: নারকেলের ছোবড়া থেকে কোকোপিট তৈরি হয়, যা সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নারকেলের শাঁস থেকে ভার্জিন কোকোনাট অয়েল এবং নারকেলের দুধ তৈরি করা যায়, যা বাজারে ভালো দামে বিক্রি হয়।

অন্যান্য পণ্য: নারকেল গাছের পাতা দিয়ে ঝাড়ু ও অন্যান্য গৃহস্থালি সামগ্রী তৈরি করা যায়।

কৃষকদের জন্য সরকারি সাহায্য

নারকেল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে:

ভর্তুকি: পাঁচ বছরের বেশি বয়সি নারকেল গাছের পরিচর্যার জন্য সরকার প্রতি হেক্টরে ৪২ হাজার টাকা ভর্তুকি দেয়। অর্থাৎ, প্রতিটি গাছের জন্য প্রায় ২৪০ টাকা ভর্তুকি পাওয়া যায়। তবে, এই টাকা সরাসরি হাতে না দিয়ে চাষের প্রয়োজনীয় সামগ্রী হিসেবে দেওয়া হয়।

কারখানা স্থাপনে সাহায্য: নারকেলের সামগ্রী উৎপাদনের জন্য যদি কোনো কৃষক কারখানা স্থাপন করতে চান, তবে যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য খরচের ৫০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ বহন করে।

ভবিষ্যতের পথ

নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ কৃষকদের মধ্যে চারা বিতরণ এবং বিভিন্ন কর্মশালার মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াচ্ছে। তারা আশা করছে, সঠিক পরিচর্যা ও সরকারি সহায়তায় বাংলায় আবারও নারকেল চাষের ঐতিহ্য ফিরে আসবে এবং কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে।