লাবণী নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে খুন! মহারাষ্ট্রের ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য

মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলায় এক ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোবিন্দ জগন্নাথ বারগে (৩৮) নামের ওই ব্যবসায়ীর মাথায় গুলিবিদ্ধ দেহ তাঁর নিজের গাড়িতে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে করা হলেও, পরবর্তীতে তদন্তে এক লাবণী নৃত্যশিল্পীর জড়িত থাকার অভিযোগে চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে পূজা দেবীদাস গাইকোয়াদ নামের ওই নৃত্যশিল্পীকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার রাতে সোলাপুর জেলার সাসুরে গ্রামে একটি গাড়ি সন্দেহজনকভাবে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরদিন সকালে বৈরাগ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির ভেতর থেকে গোবিন্দ বারগের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করে। গাড়ির ভেতরে একটি পিস্তলও পাওয়া যায়। গোবিন্দ বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা। বীড জেলার বাসিন্দা গোবিন্দ একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন।
তদন্তে জানা যায়, গোবিন্দর সঙ্গে পূজা গাইকোয়াদের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পূজা সাসুরে গ্রামের বাসিন্দা এবং একজন লাবণী নৃত্যশিল্পী। পুলিশ সূত্রে খবর, গোবিন্দ পূজাকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার সোনার গয়না এবং একটি মোবাইল ফোন উপহার দিয়েছিলেন।
মৃত গোবিন্দর শ্যালক লক্ষ্মণ জগন্নাথ চবণ বৈরাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন যে, পূজা নিয়মিত গোবিন্দকে টাকা চেয়ে ব্ল্যাকমেল করতেন এবং ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিতেন। গোবিন্দ মানসিকভাবে এই হুমকির কারণে বিপর্যস্ত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি গোবিন্দ এবং পূজার মধ্যে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, যার পরেই ব্ল্যাকমেলিং আরও বেড়ে যায়।
গোবিন্দর পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত খুন। তারা পূজার জড়িত থাকার বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাসী। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পূজা গাইকোয়াদকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় (আত্মহত্যায় প্ররোচনা) গ্রেপ্তার করেছে। তবে, পুলিশও এই ঘটনাটিকে কেবল আত্মহত্যা হিসেবে দেখছে না এবং খুনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। ঘটনার পেছনের আসল কারণ জানতে পুলিশ এখন পূজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। খুব দ্রুতই এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।