হিংস্রতা ও বর্বরতার চরম রূপ! হায়দ্রাবাদে মহিলাকে প্রেসার কুকার দিয়ে পিটিয়ে খুন, বাথরুমে স্নান করে পালাল দুষ্কৃতকারীরা

হাড়হিম করা নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে হায়দ্রাবাদের একটি গেটেড কমিউনিটিতে। এক মহিলাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে, প্রেসার কুকার দিয়ে পিটিয়ে এবং ছুরি-কাঁচি দিয়ে গলা কেটে খুন করে পালিয়ে গেল দুই দুষ্কৃতকারী। শুধু তাই নয়, হত্যার পর তারা বাড়ি লুট করে, বাথরুমে স্নান করে এবং রক্তমাখা পোশাক ফেলে রেখে যায়। এই ঘটনায় তেলাঙ্গানা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

কীভাবে ঘটল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড?
নিহত মহিলার নাম রেণু আগরওয়াল (৫০)। তিনি তার স্বামী ও ছেলের সঙ্গে সাইবারাবাদের একটি গেটেড কমিউনিটির সোয়ান লেক অ্যাপার্টমেন্টের ১৩ তলায় থাকতেন। বুধবার সকালে তার স্বামী ও ছেলে কাজের জন্য বাইরে গেলে রেণু বাড়িতে একা ছিলেন। বিকেল ৫টা নাগাদ তার স্বামী ফোন করলে কোনো সাড়া না পেয়ে দ্রুত বাড়ি ফেরেন। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় একজন প্লাম্বারের সাহায্যে দরজা ভেঙে তিনি ভেতরে ঢোকেন এবং স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুলিশে খবর দেন।

ভয়ঙ্কর বিবরণ
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীরা রেণু আগরওয়ালের হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর তারা তাকে প্রেসার কুকার দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে এবং ছুরি ও কাঁচি দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে। হত্যার পর তারা বাড়ি থেকে প্রায় ৪০ গ্রাম সোনা এবং নগদ ১ লক্ষ টাকা লুট করে। এখানেই শেষ নয়, তারা বাথরুমে স্নান করে নিজেদের রক্তমাখা পোশাক রেণুর দেহের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

তদন্তে নতুন মোড়
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ দু’জনকে সন্দেহ করছে। তাদের মধ্যে একজন রেণুর বাড়িতে কাজ করতেন এবং অন্যজন পাশের বাড়ির গৃহকর্মী। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই দু’জন বিকেল ৫টা ২ মিনিটে ভবন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের ধারণা, তারা রাঁচিতে পালিয়ে গেছে। রেণুর বাড়িতে কাজ করা হর্ষ ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা এবং তাকে প্রায় ১০ দিন আগে একটি জনশক্তি সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়েছিল। অন্যজন রৌশন, যিনি প্রতিবেশীর বাড়িতে কাজ করতেন, তার নিয়োগকর্তার গাড়িতে করেই দুজনে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনায় কুকাটপল্লি থানায় একটি খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক প্রমাণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখছে। এই ধরনের সুরক্ষিত এলাকায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।