মঙ্গলে কি মিলল প্রাণের সন্ধান? শিলার নমুনায় ‘আদিম জীবনের’ ইঙ্গিত! তোলপাড় মহাকাশবিজ্ঞান

নাসার পার্সিভারেন্স রোভার মঙ্গলগ্রহের মাটি থেকে এমন কিছু শিলার নমুনা সংগ্রহ করেছে, যা কোটি কোটি বছর আগের প্রাচীন জীবনের সম্ভাব্য চিহ্ন বহন করছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি হতে পারে লাল গ্রহে প্রাণের সন্ধানে সবচেয়ে বড় আবিষ্কার।

নাসার পার্সিভারেন্স রোভার মঙ্গলের ‘জেজেরো ক্রেটার’-এর একটি শুকনো নদীর তলদেশ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নমুনাটি সংগ্রহ করেছে। ভারপ্রাপ্ত নাসা প্রশাসক শন ডাফি জানান, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পার্সিভারেন্সের এই আবিষ্কারটি মঙ্গলে প্রাণের সন্ধান পাওয়ার সবচেয়ে কাছাকাছি এনে দিয়েছে। লাল গ্রহে সম্ভাব্য ‘বায়োসিগনেচার’ (প্রাণের চিহ্ন) শনাক্তকরণ একটি যুগান্তকারী ঘটনা।”

রোভার এই শিলাগুলিকে ‘স্যাফায়ার ক্যানিয়ন’ নমুনা নাম দিয়েছে। এটি এক ধরনের পাললিক শিলা, যা সূক্ষ্ম-দানাদার পলি ও নুড়ি-আকারের কণা দিয়ে তৈরি। বিজ্ঞানীরা এক বছর ধরে নমুনাটি পরীক্ষা করেছেন এবং এতে বায়োসিগনেচার থাকার ব্যাপারে আশাবাদী। সম্প্রতি ‘নেচার’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রও এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক জোয়েল হুরোভিটজ বলেন, “আমরা যে রাসায়নিক যৌগগুলো পেয়েছি, তার সংমিশ্রণ অণুজীবের বেঁচে থাকার জন্য একটি সমৃদ্ধ শক্তির উৎস হতে পারে।”

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মঙ্গলগ্রহ একসময় আজকের মতো শুষ্ক ছিল না। প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন বছর আগে এখানে তরল জল ছিল এবং নদী একটি হ্রদ তৈরি করেছিল। বিজ্ঞানীরা সন্দেহ করছেন, সেই হ্রদের তলদেশে অণুজীবের অস্তিত্ব ছিল। স্যাফায়ার ক্যানিয়নের নমুনাটি একটি প্রাচীন নদী উপত্যকা ‘নেরেটভা ভ্যালিস’-এর পাথরের অংশ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, যা সেই পুরনো হ্রদেই এসে মিশেছিল। এই আবিষ্কার মঙ্গলের অতীত জীবন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও স্পষ্ট করবে বলে মনে করা হচ্ছে।