বিপদের লাল সঙ্কেত! পাটনায় বিপদসীমার প্রায় ২ মিটার উপর দিয়ে বইছে গঙ্গা, আকণ্ঠ জলে ভাসছে ১২টি জেলা!

বিহারের একাধিক নিচু এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গঙ্গা নদী এবং তার উপনদীগুলির জলস্তর লাগাতার বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজ্যজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিহারের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য এবং নেপালের ক্যাচমেন্ট এলাকায় অবিরাম বৃষ্টির কারণে একাধিক নদী তাদের বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পাটনা, বৈশালী, ভোজপুর, বেগুসরাই এবং ভাগলপুর সহ ১২টি অববাহিকা জেলার প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ বর্তমানে তীব্র জলমগ্নতা এবং বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছেন।
জলস্তর রেকর্ড উচ্চতায়:
ভাঙল ২০১৬-র রেকর্ড: জলসম্পদ বিভাগের (WRD) তথ্য অনুযায়ী, পাটনার গান্ধী ঘাটে গঙ্গার জলস্তর ২০১৬ সালের অগস্ট মাসের সর্বোচ্চ বন্যাস্তরকে (HFL) ছাড়িয়ে গিয়ে ৫০.৫৮ মিটারে পৌঁছেছে। রাজ্যের রাজধানীতে নদীটি এখন বিপদসীমার প্রায় দুই মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যান্য নদীগুলির অবস্থাও সংকটজনক: গঙ্গা ছাড়াও গন্ধক, কোশী, বুড়ি গন্ধক, পুনপুন এবং ঘাঘরা নদীও বিভিন্ন জায়গায় উপচে পড়ছে, যা গ্রামীণ এলাকার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নিচু এলাকায় প্লাবন ও মানুষের দুর্দশা:
দিয়ারা (চর) এবং নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলিতে বন্যাজলের কারণে আবাসিক এলাকা, কৃষিজমি ও গ্রামীণ পরিকাঠামো জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বৈশালীর রাঘোপপুর ব্লকে রাস্তাঘাট ও স্থানীয় বাজার জলের তলায় চলে গেছে। বেগুসরাই ও ভোজপুরের বহু বাড়ির ভেতরে দুই থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত জল জমেছে। বাধ্য হয়েই সাধারণ মানুষকে নৌকা করে নিরাপদ স্থানে বা উঁচু বাঁধের দিকে সরে যেতে হচ্ছে। পাশাপাশি, ভুট্টা ও শাকসবজির ব্যাপক চাষের জমি জলের তলায় চলে যাওয়ায় কৃষিকাজেও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও উদ্ধারকাজ:
পরিস্থিতি সামাল দিতে ১২টি জেলাকে ‘হাই অ্যালার্ট’-এ রাখা হয়েছে। জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF ও SDRF)-এর দলগুলি ৮০০টিরও বেশি মোটরবোট নিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। দুর্গতদের সহায়তার জন্য বহু কমিউনিটি কিচেন, অস্থায়ী চিকিৎসা শিবির খোলা হয়েছে এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার আগে পর্যন্ত নদী বাঁধগুলির ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।